এক পুকুরে মাছ, পাড়ে সবজি চাষে স্বাবলম্বী ওয়ালি উল্লাহ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ দুপুর
  • ৭০০৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার হোমনায় অল্প জমিকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত চাষে সাফল্য পেয়েছেন ওয়ালি উল্লাহ। পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীমদ্দি গ্রামের এই কৃষক ১৬ শতাংশের পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুরপাড় ও সংলগ্ন জমিতে নানা ধরনের সবজি আবাদ করছেন। এতে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কমেছে দৈনন্দিন বাজার খরচ।১৬ শতাংশের পুকুরে চার হাজার পোনা

ওয়ালি উল্লাহর বাড়ির দক্ষিণ পাশে সম্প্রতি তৈরি হয়েছে একটি গ্রামীণ সড়ক। এর পাশেই রয়েছে তার ১৬ শতাংশের পুকুর। শখের বশে জমি কেটে তৈরি করা ওই পুকুরে তিনি কার্প, সরপুঁটি, তেলাপিয়া ও বাটা প্রজাতির প্রায় চার হাজার পোনা ছেড়েছেন।

প্রতিদিন নিয়ম করে মাছকে সম্পূরক খাবার দেন তিনি। পরিচর্যায় মাছগুলো এখন প্রায় ছয় ইঞ্চি লম্বা হয়েছে। পুকুরে মাছের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মাঝে মাঝে কিছু মাছ ধরেও নেন তিনি।

পুকুরপাড়জুড়ে বিষমুক্ত সবজি

মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুরের পাড়ের খালি জায়গাও কাজে লাগিয়েছেন ওয়ালি উল্লাহ। পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পুরো পাড়জুড়ে গড়ে তুলেছেন বিষমুক্ত সবজির বাগান। পুকুরসংলগ্ন প্রায় এক বিঘা জমিতেও চাষ করছেন লাউ, চিচিঙ্গা ও ঝিঙা।

বাঁশের মাচায় ছড়িয়ে পড়েছে লাউগাছ, পাশাপাশি রয়েছে শিমের চারা। পুকুরপাড়ের বিভিন্ন অংশে শোভা পাচ্ছে বেগুন, পুঁইশাক, মিষ্টিকুমড়াসহ নানা ধরনের শাকসবজি। এর সঙ্গে পেঁপে, আম ও কলার চারাও রোপণ করেছেন তিনি।

ওয়ালি উল্লাহ জানান, গত কয়েক বছর ধরে তিনি সমন্বিত পদ্ধতিতে মাছ ও সবজি চাষ করছেন। এতে পরিবারের আমিষ ও পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারের দৈনন্দিন খরচও অনেকটা কমেছে।

তার এই উদ্যোগ নতুন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষেরও নজর কেড়েছে। অল্প জমিকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে মাছ ও সবজি উৎপাদনের এ পদ্ধতি স্থানীয়দের কাছেও অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে।

কৃষি ও মৎস্য বিভাগের সহায়তার আশ্বাস

হোমনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ওয়ালি উল্লাহর সমন্বিত চাষের উদ্যোগ নিরাপদ খাদ্য ও সবজি উৎপাদনে অন্যদের উৎসাহিত করবে। তাকে কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের সবজি চাষে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। সরকারি কৃষক কার্ডের সুবিধা নিশ্চিত করে তার চাষাবাদ আরও জোরদারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাশে থাকবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, ১৬ শতাংশের পুকুরে ওয়ালি উল্লাহর মাছ চাষের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে ভালো ফলনের জন্য পুকুরের আয়তন অনুযায়ী মাছের অনুপাত ঠিক রাখা জরুরি। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে সঠিক অনুপাতে পোনা মজুতের পরামর্শের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad