পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকেট অ্যাডিক্টর জানিয়েছে, এপিএলে অংশ নিতে কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেবে না পিসিবি।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) চলতি বছর এপিএল টি-টোয়েন্টি পুনরায় আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে টুর্নামেন্টটি শুরু হওয়ার কথা। এবারের আসরে পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ইতোমধ্যে এপিএলের দুই দল বালখ জওয়ানান ও কান্দাহার ওয়ারিয়র্স চার পাকিস্তানি ক্রিকেটারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। একই সঙ্গে কোচিং স্টাফে যুক্ত করার জন্য সাবেক দুই পাকিস্তানি ক্রিকেটারের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়। তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে পিসিবিকে জানানো হয়েছে, বর্তমান বা সাবেক কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারকেই এপিএলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না।
এর ফলে খেলোয়াড় ও কোচ মিলিয়ে ছয়টি প্রস্তাব আর এগোয়নি। পিসিবিও সংশ্লিষ্টদের এনওসি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
পিসিবির একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিকেটারদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এপিএলের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রাখা যাবে না। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাকেই এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে পিএসএল ২০২৬ ঘিরেও দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। কয়েকজন শীর্ষ আফগান ক্রিকেটার পাকিস্তান সুপার লিগ থেকে সরে দাঁড়ান। পরে বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে আফগান ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়েও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে এসিবি।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির প্রভাব দুই দেশের ক্রিকেটেও পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। তবে আফগান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সীমান্ত সংঘর্ষ, সামরিক অভিযান এবং ডুরান্ড লাইন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে সেই উত্তেজনার প্রভাব দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও দৃশ্যমান হচ্ছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক