বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরী অনুপস্থিত থাকায় নির্ধারিত সময়ে অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়নি। পরে ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, এদিন মামলায় কারাগারে আটক ২৪ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও চারজন নারী।
মামলার ধারাবাহিকতামামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক।
তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
পলাতক ২৫৬ আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে গত ১৪ অক্টোবর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ১১ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।
এরপর গত ২১ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এ অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আংশিক শুনানি হয়। পরে ২ মার্চ ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে মামলাটি বিচারের জন্য বদলি করা হয়। এর আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিশেষ জজ আদালত-৯-এ অভিযোগ গঠনের আংশিক শুনানি হয়েছিল।
যে অভিযোগে মামলামামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে শেখ হাসিনাসহ কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ভার্চুয়াল সভায় শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। পরে ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে মামলার অভিযোগগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়নি; অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ হবে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক