ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর কামজং জেলার পিলং গ্রামের কাছে হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সশস্ত্র ব্যক্তিরা পাঁচ গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালালে চারজন নিহত হন। পরে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ফামি জাজো, ভারেইশিম জাজো, বেটারসন জাজো ও নিংথেম কাশাক রয়েছেন। ফামি ও ভারেইশিম সম্পর্কে বাবা-ছেলে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
১২ ঘণ্টা ধরে হামলা-অগ্নিসংযোগএর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত কাংপোকপি জেলার মাকুই চাম্রিউপিউ, মাকুই থানাম্বা ও মাকুই থেব্রাম এলাকায় ব্যাপক সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রের হিসাবে, মাকুই চাম্রিউপিউতে ১৭টি, মাকুই থানাম্বায় ৮টি এবং মাকুই থেব্রামে ১৬টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৪১টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ২টার দিকে শুরু হওয়া সহিংসতা পরদিন রাত আড়াইটা পর্যন্ত চলে। হামলার মুখে বহু বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। কয়েকটি প্রতিবেদনে একটি গির্জাসহ অন্যান্য স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে স্থানীয় ও সরকারি সূত্রে ভিন্নতা রয়েছে।
হামলাকারী নিয়ে অভিযোগপিলংয়ের হামলার ঘটনায় মিয়ানমারভিত্তিক কুকি ন্যাশনাল আর্মি-বার্মা (কেএনএ-বি) সদস্যদের সন্দেহ করা হচ্ছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নিয়ে তদন্ত চলছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও হামলাকারীদের বিষয়ে ‘সন্দেহভাজন’ শব্দ ব্যবহার করেছে।
এ ছাড়া ২৩ সেপ্টেম্বর তামেই মহকুমার লাসানে-ওয়াকোটফাই এলাকায় পাওজাঙ্গাম চংলোই নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার খবরও স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে এসেছে। নাগা পিপলস ফ্রন্টের বিধায়ক আওয়াংবাউ নিউমাই এসব হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের নিন্দা জানিয়ে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সহিংসতা পরিহার করে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নিন্দাচার নাগা নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং নিন্দা জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমাজে এ ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং এমন ঘটনা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে জাতিগত সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে রাজ্যটির বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে আসছে। নতুন করে কামজং ও কাংপোকপিতে সহিংসতার ঘটনায় ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আবারও বেড়েছে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে, দ্য সাংগাই এক্সপ্রেস ও ই-পাও।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক