বাকৃবির ১০ তলা ছাত্রী হলে এক বছরেও পুরোপুরি চালু হয়নি লিফট

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ বিকাল
  • ২৫০৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ১০ তলাবিশিষ্ট বেগম খালেদা জিয়া মহিলা হল চালুর এক বছর পার হলেও এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি লিফট। প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর এ হলে প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে ১০ তলা পর্যন্ত ওঠানামা করতে হচ্ছে। এতে ক্লাস, খাবার সংগ্রহ ও অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়ছেন আবাসিক ছাত্রীরা।

হলের শিক্ষার্থীরা জানান, বিশেষ করে ওপরের তলাগুলোতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন একাধিকবার সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ক্লাসের ফাঁকে অল্প সময়ের জন্য হলেও অনেকেই কক্ষে ফিরতে পারছেন না। পাশাপাশি ক্যান্টিন নিচতলায় হওয়ায় খাবারের জন্যও দীর্ঘ সিঁড়ি পাড়ি দিতে হচ্ছে।

হলের অষ্টম তলায় থাকা পশুপালন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস শেষে এমনিতেই ক্লান্ত থাকতে হয়। এরপর ১০ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি বেয়ে উঠতে আরও কাহিল হয়ে পড়তে হয়। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ক্লাস দিনে দুই সময়ে হওয়ায় ক্লাসের ফাঁকে হলে ফিরে আসাও কঠিন। ক্যান্টিন নিচতলায় হওয়ায় খাবার সংগ্রহেও ভোগান্তি হচ্ছে।

দশম তলায় থাকা প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, একবার নিচে নামলে আবার ওপরে উঠতে ইচ্ছা করে না। তাই অনেক সময় একবারেই খাবার নিয়ে ওপরে উঠতে হয়। এতে দিনে একবেলা খাবার খাওয়া হয়, সকালের খাবারও অনেক সময় খাওয়া হয় না। শুক্রবার ও শনিবার ক্লাস বন্ধ থাকায় এ সমস্যা আরও প্রকট হয়। হলে রান্নার সুযোগ না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে খাবার তৈরি করেও খাওয়ার সুযোগ নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ১০ তলা আবাসিক ভবনে লিফট ছাড়া শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন। প্রতিদিন সকাল-বিকেলে ক্লাস শেষে এবং তিন বেলা খাবারের জন্য দীর্ঘ সিঁড়ি ব্যবহার করতে হয়। তবে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে সমস্যা আরও গুরুতর হয়। তাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া এবং চিকিৎসা শেষে আবার কক্ষে পৌঁছে দেওয়া কষ্টসাধ্য।

এক সপ্তাহের মধ্যে একটি লিফট চালুর আশা

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়ে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষক ও হাউস টিউটররা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। লিফট স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি লিফট চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি চালু হলে ছাত্রীদের ওঠানামার কষ্ট অনেকটাই কমবে।

পরীক্ষামূলকভাবে চলছে তিনতলা পর্যন্ত

লিফট চালুর অগ্রগতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মুহ. এনামুল হক বলেন, খালেদা জিয়া হলের জাপানি প্রযুক্তির নতুন লিফটটির মেশিনসহ স্থাপনের সব কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে এটি তিনতলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। পুরো কাজ শেষ হতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষামূলকভাবে লিফটটি ব্যবহারের পর সেটি স্থায়ীভাবে চালু করা হবে। আপাতত একটি লিফট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্য লিফটগুলোর যন্ত্রাংশ এসে পৌঁছালেও সেগুলোর কাজ এখনো শুরু হয়নি। নিয়মিত সার্ভিসিং নিশ্চিত করে অন্তত একটি লিফট চালু করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad