এনসিটি-সিসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৯ দুপুর
  • ২৪১২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি–চট্টগ্রাম। একই সঙ্গে আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার নগরের বারিক বিল্ডিং মোড়ে সমাবেশ শেষে বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বন্দর রক্ষা কমিটির নেতাকর্মীরা। মিছিল থেকে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা বাতিল এবং চট্টগ্রাম বন্দরের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া হলে দেশের অর্থনীতি, জাতীয় স্বার্থ, শ্রমিকদের অধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।

বন্দর রক্ষা কমিটি–চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

তপন দত্ত বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থে হতে পারে না। এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার আগে দেশের স্বার্থ, শ্রমিকদের অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।

এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এনসিটি ও সিসিটি পরিচালনার নামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ তুলে দিলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সরকারকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।

কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো ও আধুনিকায়নের নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সংযোজন এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব।

তিনি বলেন, এনসিটি ও সিসিটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এসব টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হলে রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। একই সঙ্গে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান ও চাকরির নিরাপত্তাও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, এনসিটি দেশের বিনিয়োগে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক টার্মিনাল। এটি ইজারা দেওয়া হলে দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, এনসিটি ও সিসিটি ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’। একটি কুচক্রী মহল পুরো হাঁসটিই খেয়ে ফেলতে চাইছে। দেশের স্বার্থে কোনোভাবেই এ ধরনের উদ্যোগ মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, এত দিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সরকার বিষয়টি আমলে নেয়নি। তাই বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। আন্দোলন আরও বড় আকার নেওয়ার আগেই সরকারকে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা না দেওয়ার ঘোষণা দিতে হবে।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে এগিয়ে যান।

তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad