পোল্ট্রি উৎপাদন বাড়িয়ে ডিম-মাংসের দাম সহনীয় রাখার তাগিদ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ বিকাল
  • ২৮৯১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
পোল্ট্রি খাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ডিম ও মুরগির মাংসের দাম রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি।

তিনি বলেছেন, কৃষির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের পোল্ট্রি খাতের পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন করতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের মান নিশ্চিত এবং বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার মাধ্যমে ডিম ও মুরগির মাংসের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা সম্ভব।

বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (BPICC) উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পোল্ট্রি খাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মান নিশ্চিত করতে হবে। খামারিরা যেন তাদের উৎপাদিত ডিম ও মুরগির ন্যায্যমূল্য পান, আবার সাধারণ মানুষও যেন সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ডিম ও মাংস কিনতে পারেন—এ দুই বিষয় সমন্বয় করে এগোতে হবে।

তিনি বলেন, ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন বাড়লে বাজারে সরবরাহও বাড়বে। এতে দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে। এ জন্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধের তাগিদ

পোল্ট্রি খাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ডিম, মাংস ও পোল্ট্রি ফিডের মান নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোল্ট্রি খাতের পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন করতে হবে। এ খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার সহযোগিতা করবে। বিশেষ করে প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন ধরে রাখতে ঋণসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

মাঠপর্যায়ের খামারিদের সঙ্গে মতবিনিময়

পোল্ট্রি খাতের প্রকৃত সমস্যা ও সম্ভাবনা জানতে মাঠপর্যায়ের খামারিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, খামারিদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ লক্ষ্যে গাজীপুর, ধামরাই, মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের প্রান্তিক খামারিদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, খামারি ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এতে এ খাত আরও শক্তিশালী হবে। দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ও মানসম্মত আমিষের জোগান নিশ্চিত করতে পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (FIAB) ও বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (BPICC) সভাপতি মশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (BAB)-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান, FIAB-এর সিনিয়র সহসভাপতি মো. আহসানউজ্জামান, WPSA-BB-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, BPICC-এর সচিব এ. টি. এম. মোস্তফা কামাল এবং নরিশের (Nourish) পরিচালক রফিকুল ইসলাম (বাবু)সহ পোল্ট্রি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

তথ্যসূত্র: কৃষি সংবাদ, প্রকাশিত প্রতিবেদন; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বক্তব্য।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad