কবে শেষ হবে পৃথিবী, হিসাব দিলেন বিজ্ঞানীরা

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৪ দুপুর
  • ৫৪০৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।

আকাশভরা নক্ষত্র, সূর্য আর অসংখ্য গ্রহ-উপগ্রহ নিয়ে গড়ে উঠেছে এই মহাবিশ্ব। তারই একটি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের পৃথিবী। সূর্যের মতো অগণিত নক্ষত্র, পৃথিবীর মতো অসংখ্য গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু ও নানা অজানা বস্তু ছড়িয়ে আছে মহাশূন্যের বিস্তীর্ণ পরিসরে।


কিন্তু এসব মহাজাগতিক বস্তুর ভবিষ্যৎ কী? তারা কি চিরকাল এভাবেই টিকে থাকবে, নাকি সময়ের প্রবাহে একদিন তাদেরও পতন ঘটবে? একে অপরকে প্রদক্ষিণ করতে থাকা গ্রহ-নক্ষত্র কি কোনো এক সময় হারিয়ে যাবে, নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে জন্ম নেবে নতুন মহাজাগতিক অস্তিত্ব?


এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের সৃষ্টি, বিবর্তন ও সম্ভাব্য শেষ পরিণতি নিয়ে চলছে নানা অনুসন্ধান। নতুন নতুন গবেষণায় উঠে আসছে ব্রহ্মাণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা তত্ত্ব ও সম্ভাবনা।


তবে সম্প্রতি মহাবিশ্বের শেষ পরিণতির সম্ভাব্য সময় নিয়ে নতুন ধারণা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৩৩.৩ বিলিয়ন বছর পর মহাবিশ্ব ধ্বংসের পথে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটি, চীনের সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গবেকেরা গবেষণাটি করেছেন।


গবেষণা অনুযায়ী, একসময় মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ থেমে যেতে পারে। এরপর শুরু হবে সংকোচন প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত সবকিছু একটি একক বিন্দুর দিকে ধাবিত হবে। এ ঘটনাকে বলা হয় ‘বিগ ক্রাঞ্চ’। এটি অনেকটা ‘বিগ ব্যাং’-এর বিপরীত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ শুরু হয়েছিল বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।


বর্তমানে মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়তে আরো প্রায় ২০ বিলিয়ন বা ২০০০ কোটি বছর সময় রয়েছে।


গবেষণাটি এমন একটি তত্ত্বের ওপর তৈরি, যেখানে মহাবিশ্বকে একটি প্রসারিত রাবার ব্যান্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এ ধারণা অনুযায়ী মহাবিশ্ব যত বেশি প্রসারিত হবে, একপর্যায়ে সেই প্রসারণের শক্তি হারিয়ে সবকিছু আবার ভেতরের দিকে সংকুচিত হতে শুরু করবে।


এই তত্ত্বের কেন্দ্রে রয়েছে ডার্ক এনার্জি। বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ অংশজুড়ে থাকা এই রহস্যময় শক্তিই এই সম্প্রসারণের প্রধান চালিকাশক্তি।


তবে নতুন গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে, ডার্ক এনার্জি হয়তো স্থির নয়; সময়ের সঙ্গে এর পরিবর্তন হতে পারে। ফলে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ চিরকাল অব্যাহত থাকবে না। নতুন মডেল অনুযায়ী এটি আরো কিছু সময় প্রসারিত হবে। তবে ধীরে ধীরে এর গতি কমে আসবে।


গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান আকারের চেয়ে প্রায় ৬৯ শতাংশ বড় হওয়ার পর মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ থেমে গিয়ে ধীরে ধীরে সংকোচন শুরু হতে পারে।


তবে ওই সময় পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। অন্য এক গবেষণার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী প্রায় ২০ বিলিয়ন বছরের মধ্যে সূর্য বিলীন হবে এবং আমাদের ছায়াপথ ‘মিল্কিওয়ে’ কাছের ‘অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির’ সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়বে। আর এভাবেই এক দিন সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad