আগস্টে সংকোচনের মুখে উৎপাদন-সেবা, কমল পিএমআই

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ বিকাল
  • ৩২৮০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আগস্টে সামান্য সংকোচন দেখা দিয়েছে। এ মাসে বাংলাদেশের পারচেজিং ম্যানেজার্স’ ইনডেক্স (পিএমআই) জুলাইয়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ পয়েন্ট কমে ৪৯ দশমিক ৯-এ নেমেছে। উৎপাদন ও সেবা খাতে মন্থরতার কারণে মূলত এ পতন হয়েছে। তবে কৃষি খাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং নির্মাণ খাতও আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে।

মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) আগস্টের পিএমআই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টে কৃষি খাতের পিএমআই ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬ দশমিক ৫ হয়েছে। এ নিয়ে টানা ১২ মাস খাতটি সম্প্রসারণের পর্যায়ে রয়েছে। নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান বাড়ার কারণে কৃষিতে এ সম্প্রসারণ হয়েছে। উপকরণ ব্যয় বাড়লেও বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। তবে অসম্পন্ন অর্ডারের সূচক সংকোচনের ধারায় রয়েছে।

সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে উৎপাদন খাতে। জুলাইয়ের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে আগস্টে এ খাতের পিএমআই ৪৭ দশমিক ৪-এ নেমেছে। ফলে উৎপাদন খাত সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন অর্ডার, নতুন রপ্তানি অর্ডার, উৎপাদন, উপকরণ ক্রয়, মজুত, আমদানি ও কর্মসংস্থান—সবগুলো সূচকই সংকোচনের পর্যায়ে ফিরে গেছে। একই সময়ে উপকরণের দাম দ্রুত হারে বেড়েছে।

নির্মাণ খাত অবশ্য আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ খাতের পিএমআই ৫২ দশমিক ৪-এ উন্নীত হয়ে আবার সম্প্রসারণের পর্যায়ে ফিরেছে। নির্মাণ কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান বেড়েছে। নতুন ব্যবসায় সংকোচনের হারও কমেছে। তবে উপকরণ ব্যয় দ্রুত বেড়েছে এবং অসম্পন্ন অর্ডার সংকোচনের পর্যায়ে চলে গেছে।

অন্যদিকে, ২২ মাস পর প্রথমবারের মতো সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে সেবা খাত। জুলাইয়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ পয়েন্ট কমে আগস্টে এ খাতের পিএমআই দাঁড়িয়েছে ৪৯ দশমিক ২-এ। নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়লেও সম্প্রসারণের গতি কমেছে। কর্মসংস্থানেও উল্লেখযোগ্য সংকোচন হয়েছে। উপকরণ ব্যয় বাড়লেও বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে।

প্রতিবেদনে ব্যবসায়ীদের মতামতে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশার কথা উঠে এসেছে। ব্যবসার ব্যয় কমানো, আর্থিক সহায়তা বাড়ানো এবং আরও সহায়ক নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

উৎপাদন খাতের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থপ্রাপ্তির জটিলতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি এবং তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়াকে ব্যবসার গতি কমার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সেবা খাতের ব্যবসায়ীরা আর্থিক সহায়তা বাড়ানো, বিদ্যুৎ বিল ও পরিচালন ব্যয় কমানো এবং আয়করসহ অন্যান্য করের চাপ কমানোর দাবি জানিয়েছেন। কৃষি খাতের ব্যবসায়ীরা কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, আগস্টের পিএমআই ৪৯ দশমিক ৯ হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সামগ্রিকভাবে নিরপেক্ষ সীমার কাছাকাছি ছিল। উৎপাদন ও সেবা খাতে সাময়িক চাপ থাকলেও কৃষির সম্প্রসারণ এবং নির্মাণ খাতের পুনরুদ্ধার অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তিনি বলেন, উৎপাদন খাতের মন্থরতার পেছনে মাসিক রপ্তানি কমে যাওয়া এবং এলএনজি অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সাময়িক জ্বালানি বিঘ্নের প্রভাব রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, রপ্তানি চাহিদা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অর্থনীতি আবার গতিশীল হতে পারে।

এদিকে ফিউচার বিজনেস ইনডেক্স অনুযায়ী, সব খাতেই ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদের মাত্রা সামান্য কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা এখনো সতর্ক কিন্তু ইতিবাচক রয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad