একীভূত ব্যাংক পাঁচটি হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। গত বছর আর্থিক সংকটে থাকা শরিয়াহভিত্তিক এ পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।
ব্যাংকগুলোর আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। অন্য চারটি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। ওই সময়ে জামানত ছাড়াই বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি হয় এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতাও কমে যায়।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে।
গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ঘোষণা দেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতের ওপর কোনো ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না। একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ তুলতে পারবেন বলে জানানো হয়। এরপর ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ ফেরতের আবেদন নেওয়া হয়।
ব্যাংক সূত্র জানায়, নির্ধারিত নিয়মে গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে আবেদন করতে হয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হবে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল পাওয়া গেছে।
মূল টাকা তোলা যাবে, মুনাফা নয়বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের অর্থ এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা তুলতে পারবেন। তবে আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা এই সুবিধার আওতায় পাওয়া যাবে না।
কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। হস্তান্তরকারী ব্যাংকের কাছে ওই গ্রাহকের কোনো ঋণ বা দায় থাকলে টাকা ফেরতের আগে আমানতের অর্থ থেকে তা সমন্বয় করা হবে।
যেসব গ্রাহক আপাতত আমানত তুলবেন না, তারা হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে মেয়াদি আমানত মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙলে মূল টাকা পাওয়া গেলেও ওই অর্থের ওপর মুনাফা পাওয়া যাবে না। আংশিক অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে অবশিষ্ট অর্থের ওপর প্রযোজ্য নিয়মে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ নিয়ে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এদিকে টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংক শাখাগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমানতকারীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যাদের তাৎক্ষণিক অর্থের প্রয়োজন নেই, তাদের প্রথম দিনেই ব্যাংকে না এসে পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, সবাই একই সময়ে টাকা তুলতে ব্যাংক শাখায় উপস্থিত হলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে পর্যায়ক্রমে অর্থ উত্তোলনের জন্য আমানতকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক