সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা অর্ধেক কমাল সরকার

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৮ বিকাল
  • ৫১০৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি বরাদ্দ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এ অনুমোদনের মেয়াদ থাকবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র রপ্তানিকারক—কেউই আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।

রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি এবং রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আনা নিশ্চিত করতে ১০টি শর্তও দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

শর্ত অনুযায়ী, রপ্তানিকারকদের রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে। জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।

ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে। কোনোভাবেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করা যাবে না।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় সুগন্ধি চালের সর্বনিম্ন FOB রপ্তানিমূল্য প্রতি কেজি ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য হওয়ায় সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানির সুযোগও থাকছে না।

জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে। পাশাপাশি রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে ‘প্রোসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট’ (PRC) দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ৩০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মাত্র ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করতে পেরেছে।

সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এ বিবেচনায় সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমানোর পাশাপাশি পরিমাণ, মূল্য, নথিপত্র এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নতুন ব্যবস্থায় সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। তবে সরকারের লক্ষ্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad