দিনে কতবার চুল আঁচড়াবেন, জানুন চুলের ধরনভেদে সঠিক নিয়ম

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল
  • ১১৩২৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
চুলের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত আঁচড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। তবে দিনে কতবার চুল আঁচড়ানো উচিত—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে নানা ধারণা। একসময় প্রচলিত ছিল, প্রতিদিন অন্তত ১০০ বার চুল আঁচড়ালে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ভিক্টোরিয়ান যুগে এই ধারণা বেশ জনপ্রিয় ছিল। অস্ট্রিয়ার সম্রাজ্ঞী এলিজাবেথ (সিসি)ও নাকি এই নিয়ম অনুসরণ করতেন।

তবে আধুনিক গবেষণা বলছে, প্রতিদিন ১০০ বার চুল আঁচড়ানোর প্রয়োজন নেই। বরং অতিরিক্ত চিরুনি বা ব্রাশ ব্যবহারে চুলের ক্ষতি হতে পারে।

অতিরিক্ত আঁচড়ানো কেন ক্ষতিকর

বিজ্ঞানীদের মতে, ঘন ঘন চুল আঁচড়ানোর ফলে চুলে অতিরিক্ত ঘর্ষণ ও চাপ তৈরি হয়। এতে চুলের গঠনে ক্ষতি হয়ে আগা ফেটে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষক ডেভিড টেলরের মতে, চুলে বারবার ঘর্ষণ ও চাপ প্রয়োগের কারণে ধীরে ধীরে ক্ষতি জমতে থাকে। এই ধরনের ক্ষতিকে ‘কিউমুলেটিভ ফ্যাটিগ ড্যামেজ’ বা ক্রমপুঞ্জিত ক্লান্তিজনিত ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

চুল আঁচড়ানোর উপকারিতা

অতিরিক্ত আঁচড়ানো ক্ষতিকর হলেও সঠিক পদ্ধতিতে নিয়মিত চুল আঁচড়ানোর বেশ কিছু উপকার রয়েছে। এতে—

চুলে বড় ধরনের জট তৈরি হওয়া কমে এবং চুল ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে;মাথার ত্বকের মৃত কোষ, ময়লা ও ঝরে যাওয়া চুল পরিষ্কার হতে সাহায্য করে;নরমভাবে আঁচড়ালে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।চুলের ধরন অনুযায়ী আঁচড়ানোর নিয়ম

চুলের ধরন অনুযায়ী আঁচড়ানোর পদ্ধতিতেও পার্থক্য রয়েছে।

সোজা বা ঢেউখেলানো চুল: এ ধরনের চুল দিনে এক থেকে দুবার আঁচড়ানো যেতে পারে। সপ্তাহে অন্তত তিনবার আঁচড়ানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সোজা চুল ভেজা অবস্থায় আঁচড়ানো এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ ভেজা অবস্থায় চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিকেল নরম থাকে, ফলে চুল সহজেই ভেঙে যেতে পারে।

কোঁকড়া বা কুঁচকানো চুল: এ ধরনের চুল শুকনো অবস্থায় আঁচড়ালে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাই চুল ধোয়ার সময় বা ভেজা অবস্থায় ডিট্যাঙ্গলিং কন্ডিশনার ব্যবহার করে ধীরে ধীরে জট ছাড়ানো ভালো।

কেমন চিরুনি বা ব্রাশ ব্যবহার করবেন

চুলের যত্নে চিরুনি বা ব্রাশ নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। ভেজা চুলের জট ছাড়ানোর জন্য নরম ও নমনীয় ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। আর শুকনো চুলের ক্ষেত্রে ‘বোর ব্রিস্টল’যুক্ত ব্রাশ ব্যবহার উপকারী হতে পারে। এ ধরনের ব্রাশ মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

সবশেষে, চুল দিনে ঠিক কতবার আঁচড়ানো হচ্ছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কীভাবে এবং কতটা কোমলভাবে চুল আঁচড়ানো হচ্ছে। অতিরিক্ত চাপ বা ঘর্ষণ এড়িয়ে চুলের ধরন অনুযায়ী পরিমিতভাবে আঁচড়ানোর অভ্যাস চুলকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে সহায়তা করতে পারে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad