ভিডিও বিতর্কের জেরে প্রকাশ্যে এক মণ দুধে গোসল, জামায়াত নেতার দলত্যাগের ঘোষণা

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ রাত
  • ১৩৪৫১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক ভিডিও বিতর্কের জেরে জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতা প্রকাশ্যে এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে দলীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নূরনগর ইউনিয়নের হরিনাগাড়ী গ্রামে এ ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দলত্যাগকারী মো. দেলোয়ার হোসেন হরিনাগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক এবং যুব বিভাগের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর পিতা মো. মুনসুর সরদার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত ভিডিও বিতর্কের পর ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থান থেকে দলীয় রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন দেলোয়ার হোসেন। সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে তিনি জামায়াতের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, “সাম্প্রতিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। একজন কর্মী হিসেবে এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারিনি। তাই বিবেকের তাড়না থেকে জামায়াতে ইসলামীর সব ধরনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনায় তারা হতাশ। একই সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “দেলোয়ার হোসেন আমাদের ওয়ার্ড কমিটির একজন কর্মী ছিলেন। তবে তিনি বায়তুল মাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন কি না, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। বিষয়টি যাচাই করে বলতে হবে।”

গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক ভিডিও বিতর্কের পর সাতক্ষীরা জেলায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, নূরনগরের এ ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ, যা জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad