জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই দেশের ঋণের বোঝা প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বৃদ্ধি করেছে। তাঁর দাবি, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় মোট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিকল্প নেই। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, গণভোটে জনগণ সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দিলেও সরকার এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে যেমন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ঋণ প্রদানে অনাগ্রহ দেখিয়েছে, তেমনি জনগণও ভবিষ্যতে সরকারের প্রতি আস্থা হারাবে। বাজেট বাস্তবায়নের পাশাপাশি গণভোটের রায় কার্যকর করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থনৈতিক সংস্কারের অভাবের কারণেই আইএমএফ ঋণ অনুমোদন দেয়নি বলে দাবি করে আখতার হোসেন বলেন, দেশের আর্থিক খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
ব্যাংকিং খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একাধিক দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার পর নতুন আইনের মাধ্যমে সেগুলো আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। যেসব মালিকের বিরুদ্ধে ব্যাংক লুটপাট, অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাদের হাতে আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
দেশের অর্থনীতিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় প্রকাশিত শ্বেতপত্র অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধি এবং প্রায় ১০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি দেশের অর্থনীতিকে চরম চাপে ফেলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি—সরকারি দলের এমন দাবিরও সমালোচনা করেন এনসিপির এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণার আগেই সরকার দুই দফায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে, যার প্রভাব বাজারে পড়ে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই শুধু বাজেট-পরবর্তী সময়কে মূল্যস্ফীতির কারণ হিসেবে দেখানো বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ