কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ব্যাপক ভ্যাট ও শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশীয় কাজুবাদাম ও মৎস্য খাতের স্বার্থ রক্ষায় কয়েকটি আমদানিপণ্যের ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সার, কীটনাশক, পশুখাদ্য ও ভেটেরিনারি ওষুধ খাতে একাধিক কর-সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কীটনাশক ও সারে বড় কর-সুবিধা
স্থানীয়ভাবে কীটনাশক ও বালাইনাশক উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে এসব পণ্যের ৩৬ ধরনের কাঁচামাল আমদানির ওপর আরোপিত ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জিংক সালফেট সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ‘জিংক অ্যাশ’ আমদানির শুল্ক শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সব ধরনের সারের ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিদ্যমান ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কীটনাশক আমদানির ক্ষেত্রে আরোপিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আগাম করও মওকুফ করার কথা বলা হয়েছে।
পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতে নতুন প্রণোদনা
পোল্ট্রি, ডেইরি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য আরও তিন ধরনের কাঁচামাল শূন্য শুল্ক সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া এসব খাতের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় কয়েকটি উপকরণ আমদানির শুল্কও শূন্য শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
ভেটেরিনারি ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পরিবর্তে জেনেরিক ক্যাটাগরির ওষুধকে শূন্য শুল্ক সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
কাজুবাদাম ও পাঙ্গাস আমদানিতে কড়াকড়ি
দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষায় অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকারী শিল্পের জন্য অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে।
অন্যদিকে দেশীয় মৎস্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বাজার সুরক্ষায় আমদানিকৃত পাঙ্গাস মাছের ফিলেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
উৎপাদন বাড়ানোই মূল লক্ষ্য
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সরাসরি বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর ও শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত এসব কর-সুবিধা কার্যকর হলে কৃষি উপকরণের দাম কমবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং দেশীয় কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে। :::

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ