নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সরকারি রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় একটি পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বুধবার (৩ জুন) সকালে সোনারগাঁ পৌরসভার ফতেকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্ত অনিক খান সিয়াম ফতেকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবশক্তির যুগ্ম সদস্যসচিব এবং এনসিপির স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অনিক খান সিয়ামের সঙ্গে প্রতিবেশী তাইজুল ইসলামের বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে তাইজুল ইসলাম গত ২ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার রাতে অনিক ও তার সহযোগীরা এলাকার একটি সরকারি চলাচলের রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বুধবার সকালে রাস্তা বন্ধের প্রতিবাদ করতে গেলে অনিকের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাইজুল ইসলামের ভাতিজা আবুল বাশারের দুটি ঘরে ভাঙচুর চালায় এবং ঘরে থাকা বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও সরকারি রাস্তা বন্ধ করার কোনো অধিকার কারও নেই। এর প্রতিবাদ করায় আমার ভাতিজার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। পরে আমরা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।’
এদিকে কয়েকজন গ্রামবাসীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনিক খান সিয়াম নিজেকে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অনিক খান সিয়াম। তিনি বলেন, রাস্তা বন্ধ করা কিংবা ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক শাকিল সাইফুল্লাহ বলেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে ঘটেছে বলে জেনেছি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ায় আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার জানান, ৯৯৯ থেকে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক