সকালের নাশতায় পরোটা অনেকেরই পছন্দের খাবার। তবে পরোটা তৈরিতে তেলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় অনেকে তা এড়িয়ে চলেন। চাইলে তেল ছাড়াই তৈরি করা যায় আলুর পুর দেওয়া নরম ও মচমচে পরোটা। আটা বা ময়দা, সেদ্ধ আলু এবং কয়েকটি পরিচিত মসলা দিয়ে সহজেই ঘরে তৈরি করা যায় এই খাবার।
তেল ছাড়া পরোটা তৈরি করতে প্রয়োজন একটি নন-স্টিক তাওয়া বা প্যান। সঠিকভাবে খামির তৈরি, আলুর পুর প্রস্তুত এবং মাঝারি আঁচে পরোটা সেঁকে নিলেই পাওয়া যাবে সুস্বাদু খাবার।
যেসব উপকরণ লাগবেখামির তৈরিতে
আটা বা ময়দা: ২ কাপ
কুসুম গরম পানি: পরিমাণমতো
লবণ: সামান্য
আলুর পুর তৈরিতে
সেদ্ধ আলু: ৩–৪টি
পেঁয়াজ কুচি: ১/৪ কাপ
কাঁচামরিচ কুচি: ২ চামচ, স্বাদমতো
ধনেপাতা কুচি: ২ টেবিল চামচ
ভাজা জিরার গুঁড়া: ১ চা চামচ
চাট মসলা: ১/২ চা চামচ
লবণ: স্বাদমতো
যেভাবে তৈরি করবেনপ্রথম ধাপ: খামির তৈরিএকটি বড় পাত্রে আটা বা ময়দার সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে নিন। এরপর অল্প অল্প করে কুসুম গরম পানি দিয়ে নরম খামির তৈরি করুন। খামিরটি ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে ১০–১৫ মিনিট রেখে দিন। এতে খামির কিছুটা নরম হবে এবং পরোটা বেলতে সুবিধা হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: আলুর পুর তৈরিসেদ্ধ আলু গরম থাকতে ভালোভাবে চটকে নিন, যাতে কোনো দলা না থাকে। এরপর এতে পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা, ভাজা জিরার গুঁড়া, চাট মসলা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
তৃতীয় ধাপ: পরোটায় পুর ভরাখামির থেকে মাঝারি আকারের কয়েকটি লেচি তৈরি করুন। প্রতিটি লেচি ছোট রুটির মতো বেলে মাঝখানে আলুর পুর দিন। চারপাশের অংশ টেনে এনে মুখ বন্ধ করে আবার গোল করে নিন। এরপর সামান্য শুকনো আটা ছিটিয়ে হালকা হাতে পরোটা বেলে নিন। বেশি চাপ দিলে পুর বেরিয়ে যেতে পারে।
চতুর্থ ধাপ: তেল ছাড়া সেঁকে নেওয়াএকটি নন-স্টিক তাওয়া বা প্যান মাঝারি আঁচে গরম করুন। এতে বেলে রাখা পরোটা দিয়ে এক পিঠ হালকা সেঁকে উল্টে দিন। দুই পিঠ পর্যায়ক্রমে উল্টে হালকা চাপ দিয়ে সেঁকে নিন, যতক্ষণ না পরোটার গায়ে লালচে-বাদামি দাগ পড়ে এবং ভেতরটা ভালোভাবে সেদ্ধ হয়।
এ ক্ষেত্রে তাওয়া অতিরিক্ত গরম না রাখাই ভালো। প্রয়োজন হলে আঁচ কমিয়ে পরোটার ভেতর পর্যন্ত সেদ্ধ হওয়ার সুযোগ দিন। দুই পাশ ভালোভাবে সেঁকা হলে নামিয়ে নিন।
পরিবেশন করবেন যেভাবেগরম গরম আলুর পরোটা টকদই, পুদিনার চাটনি কিংবা পছন্দের আচার দিয়ে পরিবেশন করতে পারেন। সকালের নাশতা ছাড়াও বিকেলের হালকা খাবার হিসেবে এটি উপযোগী।
মনে রাখবেন: তেল ছাড়া তৈরি করলেই খাবারটি সবার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় না। পরোটার পুষ্টিগুণ নির্ভর করে ব্যবহৃত উপকরণ ও খাওয়ার পরিমাণের ওপর।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক