উল্লাপাড়ায় কবিরাজের গণনায় হারানো গহনা ফিরে পেতে কাঠ মিস্ত্রীকে চেয়ারম্যানের নোটিশ, এলাকায় নিন্দার ঝড়
সিরাজগঞ্জে কবিরাজের গণনায় হারানো গহনা ফিরে পেতে কাঠ মিস্ত্রীকে চেয়ারম্যান কর্তৃক নোটিশ দেওয়ায় এলাকায় নিন্দার ঝড় বইছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের লাহিড়ীপাড়ায়।
জানাযায়, ২ মাস পূর্বে হারিয়ে যাওয়া দেড় লাখ টাকা মূল্যের সাড়ে ৯ আনা স্বর্ণের চেইন ফিরে পেতে কবিরাজের কথা মত এক অসহায় কাঠমিস্ত্রিকে নোটিশ করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র ঘোষ। গত রমজান মাসের শুরুতে উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর বাজারের পল্লী চিকিৎসক দুলাল হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন এলাকায় ঘুরতে গিয়ে তার সাড়ে ৯ আনা স্বর্ণের চেইন হারিয়ে যায়। কোথায় হারিয়ে গিয়েছে তা তিনি নিজেও জানেন না। এ অবস্থায় পার্শ্ববর্তী চর বড়ধন গ্রামের হাফেজ আসলাম কবিরাজের স্বরণাপন্ন হন তারা। তখন তিনি কাগজে লেখা অনেক মানুষের নামের মধ্যে থেকে লাহিড়ীপাড়ার কাঠমিস্ত্রি কাওছার আলী লাভুর পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া শিশু সৈকত (৯) এর নাম নির্ধারণ করে। এরপর থেকে প্রভাবশালী দুলাল হোসেন তাদের নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে এবং অন্য মামলায় লাবুকে আসামী করে হয়রানী করে।
কাঠমিস্ত্রি লাভু অভিযোগ করে বলেন, কবিরাজ আসলামের কথামতো আমার নিষ্পাপ শিশু পুত্রকে চোর আখ্যায়িত করে দুলাল হোসেন নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণের চেইনটি পাইনি বলে বারবার জানালেও তারা তা কিছুতেই মানছেন না। উপরোন্ত লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর গোপাল চন্দ্র ঘোষ গত ৪ মে পরিষদ থেকে আমাদেরকে হাজির হতে সমন দিয়েছেন। আমরা হারানো স্বর্ণের চেইনের বিষয়ে কিছু জানিও না, অথচ আমাদেরকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছে।
এবিষয়ে পল্লী চিকিৎসক দুলাল হোসেন জানান, কবিরাজ হাফেজ আসলাম হোসেন গণনা করে লাভুর ছেলে সৈকত স্বর্ণের চেইনটি কুড়িয়ে পেয়েছে বলে নির্ধারণ করেছে। তাই আমরা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি নোটিশ করেছে কিন্তু তারা হাজির হয়নি। তবে কবিরাজ আসলাম কোন পন্থার ভিত্তিতে এমন শনাক্ত করলো তার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কিনা পল্লী চিকিৎসক দুলাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে, তিনি সদত্তোর দিতে পারেননি।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চোর শনাক্তের বিষয়ে কবিরাজ হাফেজ আসলাম এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি প্রথমে ঘটনাটিকে আমলে নিতে চাইনি। এ নিয়ে এখন বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। তাই আমি নিজেও বিব্রত। আপনার এই শনাক্তের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কিনা এমন প্রশ্ন করলে, তিনি বলেন এজন্যই আমি এগুলো করতে চাইনি।
তবে, লাহিড়ি মোহনপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র ঘোষ জানান, আমরা আসলে কবিরাজের কথায় বিশ্বাসী নই। আমাদের কাছে দুলাল হোসেন অভিযোগ করায় শিশুকে ডেকে না এনে তার পিতা লাবুকে হাজির হতে নোটিশ করেছি।যেহেতু বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তাই মূলত আমরা নোটিশটা করেছি, উভয় পক্ষের কথা শুনে শান্তির লক্ষ্যে মীমাংসা করতে।
কবিরাজের কথামতো হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণের চেইন উদ্ধারে কাঠমিস্ত্রিকে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক নোটিশ দেয়ার বিষয় নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ। তিনি জানান, কবিরাজের কথার উপর ভিত্তি করে পরিষদ থেকে হয়রানি মূলক নোটিশ দেয়া ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে হয়রানীর শিকার অসহায় পরিবারটি থানা পুলিশের পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে আমিও বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
কমেন্ট করুন: