দিনাজপুর জেলা তাবলিগ জামাতের দায়িত্বশীল শেখ সাবির আলী জানান, দিনাজপুরে এবার অষ্টমবারের মতো ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুক্রবার ফজরের নামাজের পর মাওলানা মনির বিন ইউসুফের আমবয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জুমার নামাজের জামাতে ইমামতি ও খুতবা প্রদান করেন ঢাকার কাকরাইলের মুরুব্বি মুফতি সৈয়দ ওসামা ইসলাম। নামাজ শেষে পুনরায় আমবয়ান শুরু হয়।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, জুমার নামাজে প্রায় এক লাখ মুসল্লি অংশ নেন। দুপুরের আগেই ময়দানের দক্ষিণ অংশ মুসল্লিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বড় জামাতে নামাজ আদায়ের আশায় বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা জায়নামাজ নিয়ে সকাল থেকেই ময়দানে আসতে থাকেন।
ইজতেমায় অংশ নেওয়া মুসল্লি মো. আকবর আলী বলেন, প্রতি শুক্রবার মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করলেও এত বড় জামাতে নামাজ পড়ার সুযোগ আগে হয়নি। এবার দিনাজপুরে এমন বৃহৎ জামাতের আয়োজন হওয়ায় অধিক সওয়াবের আশায় তিনি এতে অংশ নিয়েছেন।
শেখ সাবির আলী জানান, তিন দিনের এ ইজতেমায় বাংলাদেশের আলেমদের পাশাপাশি সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সুদান থেকে আগত মাওলানারা বয়ান পেশ করবেন। আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শেষ হবে।
দিনাজপুর জেলা তাবলিগ জামাতের আমিরে ফয়সাল ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম জানান, ইজতেমায় বাংলাদেশের আমিরে ফয়সাল এবং ঢাকার কাকরাইলের দায়িত্বশীলসহ তাবলিগ জামাতের একাধিক জিম্মাদারের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের জন্য ময়দানে বিশাল প্যান্ডেল, অজুখানা, টয়লেট ও অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হয়েছে দুই শতাধিক টয়লেট। বিদেশি অতিথি ও তাবলিগ জামাতের প্রবীণ সাথিদের জন্য ময়দানের দক্ষিণ পাশে পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলা ছাড়াও ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো দিনাজপুরে জেলা ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। করোনাভাইরাসের কারণে পরবর্তী সময়ে দুই বছর ইজতেমা আয়োজন বন্ধ ছিল। এবার অষ্টমবারের মতো ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার