বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শিক্ষিকা নাসরিন সুলতানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ভুক্তভোগী স্বামী মনির হোসেন চৌধুরী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আসোলী সন্তোষপুর গ্রামের সুলকান গিয়াস উদ্দীনের ছেলে প্রবাসী মনির হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে মুলাদী উপজেলার ডিক্রীরচর গ্রামের শাহে আলম সিকদারের মেয়ে নাসরিন সুলতানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করলে স্ত্রীকে সহযোগিতা করেন মনির। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে স্ত্রীর পড়াশোনা ও অন্যান্য ব্যয় বহন করেন বলে দাবি তাঁর।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীর আর্থিক সহযোগিতায় পড়াশোনা শেষ করে নাসরিন মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের বেগম সামচুন্নাহার শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি পান।
চাকরির সুবাদে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামের কেরামত আলী হাওলাদারের ছেলে তারিকুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৪ সালে শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তারিকুলকে ভোলার একটি শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। তবে বদলির পরও তাঁদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করেন মনির।
পরবর্তী সময়ে গত জুলাই মাসে মনিরের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নাসরিন তারিকুল ইসলামকে বিয়ে করেন। এ সময় মনিরের অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই মনির হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে বরিশালের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কাজিরহাট) আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নাসরিন সুলতানা, তারিকুল ইসলাম ও তাঁদের সহযোগী জাহেদুল ইসলামকে আসামি করা হয়।
মামলার ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর নাসরিন সুলতানা ও তারিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হন। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ৪ নভেম্বর শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক সুরাইয়া খানের স্বাক্ষরে জারি করা অফিস আদেশে নাসরিন সুলতানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রবাসে উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন তাঁর সাবেক স্ত্রী। দুই সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
বেগম সামচুন্নাহার শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে আদালতে হাজির হওয়ার পর সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন সুলতানা কারাগারে গেছেন। শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মামলার নিষ্পত্তির পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক