ডেঙ্গু পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হলেও থাকতে পারে সংক্রমণ, সতর্ক থাকার পরামর্শ

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৪ বিকাল
  • ৬০৮৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি : এআই দিয়ে তৈরি
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ থাকার পরও পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসতে পারে। পরীক্ষার সময় ও ধরন সঠিক না হলে কিংবা রক্তে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করার মতো পর্যায়ে না থাকলে এমন ফল আসার আশঙ্কা রয়েছে। তাই একবার নেগেটিভ রিপোর্ট পেলেই ডেঙ্গু সংক্রমণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে পুনরায় পরীক্ষা ও রক্তের অন্যান্য উপাদান পরীক্ষা করতে হবে।

মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, ডেঙ্গু শনাক্তে এনএস১ অ্যান্টিজেন, আইজিএম অ্যান্টিবডি ও আরটি-পিসিআর পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। ভুল সময়ে পরীক্ষা করালে সংক্রমণ থাকা সত্ত্বেও রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে।

কোন পরীক্ষা কখন করবেন

এনএস১ অ্যান্টিজেন (NS1 Antigen) পরীক্ষা সাধারণত জ্বর শুরুর প্রথম এক থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে করা উচিত। জ্বরের পাঁচ-ছয় দিন পর এ পরীক্ষা করলে রক্তে অ্যান্টিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিরও নেগেটিভ রিপোর্ট আসতে পারে।

অন্যদিকে, আইজিএম অ্যান্টিবডি (IgM Antibody) পরীক্ষা সাধারণত জ্বর শুরুর পাঁচ দিন পর করা হয়। জ্বরের প্রথম দিকে শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি না হওয়ায় এ পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসতে পারে।

এ ছাড়া ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরোটাইপ ও অন্যান্য পরীক্ষাসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণেও এনএস১ পরীক্ষায় ফলস নেগেটিভ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আরটি-পিসিআর পরীক্ষার ভূমিকা

ডেঙ্গু শনাক্তে রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (RT-PCR) একটি সংবেদনশীল ও নির্দিষ্ট আণবিক পরীক্ষা। এর মাধ্যমে রক্তে ডেঙ্গু ভাইরাসের জিনগত উপাদান শনাক্ত করা হয়।

সাধারণত জ্বরের প্রথম পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে এ পরীক্ষা কার্যকর। এ সময় শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে সাত দিন পর আরটি-পিসিআর পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও ডেঙ্গু সংক্রমণ পুরোপুরি নাকচ করা যায় না। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে আইজিএম এলাইজা পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

নেগেটিভ রিপোর্ট এলে করণীয়

ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হলেও সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর, চোখের পেছনে ব্যথা, তীব্র শরীর ব্যথা, বমি বমি ভাবসহ অন্যান্য উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC) পরীক্ষা করতে হবে। এতে প্লেটলেট ও শ্বেত রক্তকণিকার (WBC) মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা যায়। তবে শুধু প্লেটলেট বা শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা দিয়ে ডেঙ্গু নিশ্চিত করা যায় না। রোগীর উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষার ফল মিলিয়ে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন।

ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা

ডেঙ্গু সন্দেহ হলে জ্বর ও ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করতে হবে। আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন ও ডাইক্লোফেনাকের মতো নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ (NSAIDs) এড়িয়ে চলতে হবে। এসব ওষুধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গ মৃদু হতে পারে। তবে দ্বিতীয়বার ভিন্ন সেরোটাইপের ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবডি-ডিপেনডেন্ট এনহ্যান্সমেন্টের (ADE) কারণে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরের সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত অসুস্থতার তৃতীয় থেকে সপ্তম দিনের মধ্যে সংকটাপন্ন পর্যায় দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর কমে গেলেও রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে

ডেঙ্গু আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীর নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে—

মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত।

অবিরাম বমি বা রক্তবমি।

কালো রঙের পায়খানা।

তীব্র পেটব্যথা।

ত্বকে অস্বাভাবিক দাগ বা রক্তক্ষরণের লক্ষণ।

রক্তচাপ কমে যাওয়া ও মাথা ঘোরা।

হাত-পা বা শরীর হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।

দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না হওয়া বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও রোগীর শারীরিক অবস্থা ও উপসর্গকে গুরুত্ব দিতে হবে। জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad