চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৭ দুপুর
  • ৬৭৫৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
অক্টোবরেই প্রবৃদ্ধি ১২.১০ শতাংশ, বিকল্প বাজারেও বাড়ছে রপ্তানি

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সবচেয়ে বড় একক গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশটিতে রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ৩৩৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ৩০০ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে।

সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবৃদ্ধির হার বেশি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি প্রতিযোগিতার মধ্যেও এ প্রবৃদ্ধিকে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা এবং বিদেশি ক্রেতাদের আস্থার ইতিবাচক প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের পণ্যের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রমাণ। রপ্তানিকারকেরা সময়মতো পণ্য সরবরাহ, গুণগত মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের শর্ত পূরণের মাধ্যমে ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে পেরেছেন।

বিকল্প বাজারেও বাড়ছে রপ্তানি

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য বিকল্প বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়ছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বড় বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশটিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ সময়ে তুরস্কে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৯ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ১৫ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার ডলার।

এ ছাড়া সৌদি আরবের বাজারে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেড়েছে ১২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ইউরোপের দেশ স্পেনেও দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

হাসান আরিফ বলেন, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ উদীয়মান বাজারগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। এতে রপ্তানি বাজারের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বড় বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।

অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, রপ্তানি বাজারের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বাড়ানো এখন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে কোনো একটি দেশের অর্থনৈতিক মন্দা, বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন কিংবা পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব মোকাবিলা সহজ হবে।

যুক্তরাজ্য দ্বিতীয়, জার্মানি তৃতীয়

যুক্তরাষ্ট্রের পর বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য যুক্তরাজ্য। জুলাই-অক্টোবর সময়ে দেশটিতে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৭৪ কোটি ডলার। একই সময়ে জার্মানির বাজারে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ডলার। এ নিয়ে জার্মানি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থানে রয়েছে। এরপর রয়েছে স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মতো বড় বাজারগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি পণ্যের উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ফলে এসব বাজারে অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন বাজার অনুসন্ধান ও পণ্যের বহুমুখীকরণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি ১২.১০ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের শুরুতেও রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৭৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই মাসে এ আয় ছিল ৬৭ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ।

অক্টোবরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, শুল্কের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে এবং রপ্তানি আয়ও বাড়ছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার কিংবা এর প্রয়োগ এড়ানোর সুযোগ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের (ইউএসটিআর) সঙ্গে বিজিএমইএর আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যাবে বলে তারা আশাবাদী।

প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণ, গুণগত মান উন্নয়ন, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো প্রচলিত বড় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা ও ভোক্তাদের পছন্দ বিবেচনায় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।

ইপিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রচলিত বড় বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং অপ্রচলিত বাজারে পণ্য সরবরাহ বাড়ার ফলে আগামী মাসগুলোতেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদী।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে মোট রপ্তানি আয় ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলারে পৌঁছানো এবং তুরস্ক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বাজারে প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে।

তথ্যসূত্র: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাসস।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad