হেমন্তের বিকেলে বারান্দা সাজুক নান্দনিকতার ছোঁয়ায়

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ দুপুর
  • ৪৩০০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
অল্প আয়োজনেই তৈরি হতে পারে প্রশান্তির নিজস্ব পরিসর | দেশজ উপকরণ, সবুজ গাছ আর উষ্ণ আলোয় বদলে যাবে বারান্দার চেহারা

ঋতুবদলের স্নিগ্ধ আবহে নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে একটু স্বস্তি পেতে বারান্দা হতে পারে দারুণ এক আশ্রয়। এক কোণে ছোট্ট টেবিল, দুটি আরামদায়ক চেয়ার, কয়েকটি গাছ আর নরম আলোর আয়োজন—অল্প কিছু উপকরণেই তৈরি করা যায় নিজের পছন্দের নান্দনিক পরিসর। হেমন্তের সোনালি বিকেলে এমন সাজে বারান্দা হয়ে উঠতে পারে চা পান, বই পড়া কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর আদর্শ জায়গা।

ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে বড় আয়োজনের চেয়ে রুচি ও পরিকল্পনাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বারান্দার জায়গা, আলো-বাতাস এবং ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে মিল রেখে সাজসজ্জা করলে ছোট পরিসরও হয়ে উঠতে পারে দৃষ্টিনন্দন ও আরামদায়ক।

তৈরি করুন ছোট্ট ক্যাফে কর্নার

বারান্দার এক পাশে ছোট একটি টেবিলের সঙ্গে দুটি বেতের চেয়ার রাখলেই তৈরি হতে পারে ক্যাফে কর্নার। টেবিলের ওপর রাখা যেতে পারে পছন্দের বই, ডায়েরি কিংবা ছবি আঁকার সরঞ্জাম। এক কাপ চা হাতে বই পড়া, ছবি আঁকা বা নিঃশব্দে প্রকৃতি দেখা—ব্যস্ত দিনের শেষে এমন আয়োজন এনে দিতে পারে প্রশান্তি।

দেশজ উপকরণে মাটির আবহ

বারান্দার সাজে পোড়ামাটির টব, মাটির প্রদীপ, নকশা করা ফুলদানি কিংবা লোকশিল্পের অনুষঙ্গ যোগ করতে পারে ভিন্ন মাত্রা। টবে বাহারি পাতার গাছ ও ঋতু উপযোগী ফুল রাখার পাশাপাশি দেয়ালে ঝোলানো যেতে পারে মাটির সরাচিত্র। মেঝেতে ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি বিছিয়ে দিলে সাজে যুক্ত হবে দেশজ আবহ।

মাটির লালচে রং, গাছের সবুজ আর হেমন্তের কোমল আলো মিলিয়ে বারান্দায় তৈরি হতে পারে ঐতিহ্য ও আধুনিক রুচির সমন্বয়।

শুকনো পাতায় ঋতুর রং

হেমন্তের সোনালি, তামাটে ও বাদামি রঙের শুকনো পাতা বারান্দার সাজে আনতে পারে প্রকৃতির ছোঁয়া। সিরামিকের ফুলদানিতে শুকনো ডালপালা, কাশফুল কিংবা বুনো ঘাস সাজিয়ে রাখা যেতে পারে। ঝরে পড়া পাতা দিয়ে তৈরি করা যায় দেয়ালচিত্র বা কাচের ফ্রেমে ছোট শিল্পকর্ম।

জীবন্ত গাছের সবুজ পাতার পাশে শুকনো পাতার সোনালি আভা তৈরি করবে রঙের বৈচিত্র্য। বিকেলের নরম আলোয় এ সাজ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

উষ্ণ আলোয় বদলে যাবে সন্ধ্যার পরিবেশ

হেমন্তের বিকাল দ্রুত সন্ধ্যায় গড়িয়ে যায়। তাই বারান্দার সাজে আলোর পরিকল্পনাও জরুরি। গাছের ডাল বা রেলিংয়ে উষ্ণ হলুদ আভাযুক্ত এলইডি স্ট্রিং লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে। টেবিলের ওপর রাখা যায় ব্যাটারিচালিত মোমবাতি বা নকশা করা লণ্ঠন। মাটির প্রদীপও যোগ করতে পারে ঐতিহ্যবাহী আবহ।

তবে আলো অতিরিক্ত উজ্জ্বল না রেখে কোমল রাখা ভালো। বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারের সময় বৃষ্টির পানি ও আর্দ্রতা থেকে সংযোগ নিরাপদ রাখতে হবে।

জায়গা বাঁচাতে দেয়ালবাগান

ছোট বারান্দায় মেঝেতে বেশি টব রাখার সুযোগ না থাকলে দেয়াল ব্যবহার করে তৈরি করা যায় ছোট্ট বাগান। কাঠের ফ্রেম, ওয়াল প্ল্যান্টার কিংবা মজবুত ঝুলন্ত পাত্রে মানিপ্ল্যান্ট, পোথোসসহ উপযোগী লতানো গাছ রাখা যেতে পারে।

দেয়ালজুড়ে সবুজের বিস্তার বারান্দাকে প্রাণবন্ত করে তুলবে। তবে পাত্রের ওজন বহনের উপযোগী দেয়াল নির্বাচন, গাছের জন্য পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

নরম আসনে বাড়বে স্বস্তি

বেতের চেয়ারে নরম কুশন, মেঝেতে ছোট গদি কিংবা ফ্লোর পিলো রাখলে বারান্দা হয়ে উঠবে আরও আরামদায়ক। কুশনের ক্ষেত্রে সরিষা-হলুদ, মাটির লাল, জলপাই-সবুজ ও বাদামি রং হেমন্তের প্রকৃতির সঙ্গে মানানসই। সন্ধ্যার হালকা শীতের জন্য পাশে রাখা যেতে পারে নরম চাদর।

সাজসজ্জায় অতিরিক্ত বাহুল্য এড়িয়ে রং ও কাপড়ের বুননে সামঞ্জস্য রাখলে বারান্দা হবে পরিপাটি ও ব্যবহার উপযোগী।

মৃদু সুর ও সুবাসে প্রশান্তি

বারান্দার প্রবেশপথে বাঁশ বা কাঠের উইন্ড চাইম ঝুলিয়ে দিলে বাতাসে তৈরি হবে কোমল সুর। পাশাপাশি লেবুঘাস, জুঁই বা বেলি ফুলের গাছ রাখা যেতে পারে। এসব গাছের সুবাস পরিবেশে সতেজতার অনুভূতি যোগ করবে। তবে সুগন্ধি ও শব্দের ব্যবহার রাখতে হবে পরিমিত।

সবুজ গাছ, দেশজ উপকরণ, নরম আসন আর উষ্ণ আলোর সমন্বয়ে ছোট্ট বারান্দাও হয়ে উঠতে পারে দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে দূরে ব্যক্তিগত প্রশান্তির জায়গা। হেমন্তের বিকেলে এমন পরিসরে এক কাপ চা কিংবা প্রিয় বইয়ের সঙ্গেই কাটতে পারে একান্ত কিছু সুন্দর মুহূর্ত।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad