ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারি, চুপ্পুর বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ বিকাল
  • ৩৩৮৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় নতুন তারিখ ধার্য করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় নতুন তারিখ

মঙ্গলবার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন।

ঢাকার তৎকালীন মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে করা ওই আবেদনের পর বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদককে নির্দেশ দেন আদালত।

২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের পরিচালিত ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড ইসলামী ব্যাংকের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করে। এসব শেয়ার ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫১ কোটি টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ছিল ৫০ কোটি টাকা। তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। এত কম পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এ লেনদেন সম্পন্ন করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে জমা হয়নি।

২৪ কোম্পানির মাধ্যমে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের মোট শেয়ারের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ অধিগ্রহণ করে ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি। এসব কোম্পানির অনেকগুলোর সঙ্গে এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শেয়ার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস এবং ক্রয়-বিক্রয়ের তারিখ বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করে এজাহারে বলা হয়, শেয়ার বিক্রি ও কেনার তারিখ উভয় পক্ষের ক্ষেত্রে একই দিনে ছিল। বাদীর অভিযোগ, এ থেকে শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এজাহারে এস আলম গ্রুপ, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালকদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন, ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তাধীন।

মামলার অন্য আসামিরা

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ ও চেয়ারম্যান মিস মিরফাত আরা বেগম; এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম; ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন, আরাস্ত খান, অধ্যাপক মো. নাজমুল হাসান, আবু সাইদ মোহাম্মদ কাশেম, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সৈয়দ আবু আসাদ, মো. কামরুল হোসেন, আহসান আলম, অধ্যাপক ডা. মো. সেলিম উদ্দিন, শওকত হোসেন, খুরশিদ-উল-আলম, অধ্যাপক ডা. কাজী শহীদুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল প্রকৌশলী আবদুল মতিন, জামাল মোস্তফা চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুল করিম।

এজাহারে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করে ১২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি এস আলম ও আবদুল ওয়াহেদের সঙ্গে যোগসাজশে নির্বাচিত পরিচালক ছিলেন।

এদিকে, মামলা দায়েরের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাড়া অন্য আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad