সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ বিকাল
  • ৩১০৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার শেরেবাংলা নগরে নতুন বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস থাকবে। একই বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনসংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে রটারডাম কনভেনশনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

৩১.৫৮ একর জমিতে নতুন সচিবালয়

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমান সচিবালয়ের জায়গা ও ভবনসংকট, ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং পর্যাপ্ত কর্মপরিবেশের অভাব বিবেচনায় শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নকশায় লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এসব ভবনে মোট প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস থাকবে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য রাখা হবে ৩ হাজার ৮০০টি স্থান, যার মধ্যে ২০০টি ভূ-উপরিস্থ পার্কিং। এ ছাড়া একটি মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতার দুটি মাল্টিপারপাস হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া ও একটি ডাকঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমান সচিবালয়ে জায়গা ও নিরাপত্তাসংকট

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গায় সচিবালয়ের ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ভবন স্বাধীনতার আগে নির্মিত। পুরোনো ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং ৫ নম্বর ভবন ১৯৪৭ সালে নির্মিত হয়।

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব ভবন ভূমিকম্প সহনশীল করে নির্মাণ করা হয়নি। ভূমিকম্পপ্রবণ ঢাকা শহরে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এ কারণে ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত অফিস স্পেস ও ওয়াশ-ব্লকের অভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে সচিবালয়ে প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত চাহিদা এবং সচিবালয় কমপাউন্ডের বাইরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর স্থানসংকুলানের জন্য আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস স্পেস প্রয়োজন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিবেচনায় নতুন সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নাম হচ্ছে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক’

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উত্থাপিত এ প্রস্তাব অনুমোদনের ফলে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ অধ্যাদেশ

বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, ভর্তুকির চাপ হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিংয়ের পর কার্যকর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সরকারের ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’-এর আওতায় আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কোম্পানির ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে অপারেশনাল এক্সপেনডিচার (ওপেক্স) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা যাবে। নিজস্ব আয় রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার (ক্যাপেক্স) মডেলেও এ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারবে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ওপেক্স মডেলে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ, ছাদ ব্যবহারের বিনিময়ে বিদ্যুতের অংশ প্রদান ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বিধিবিধানের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে ক্যাপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় বিধানের অভাব রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতেই বিশেষ অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

রটারডাম কনভেনশনে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে রটারডাম কনভেনশনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়।

১৯৯৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গৃহীত কনভেনশনটি ২০০৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হয়। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতোমধ্যে ১৬৭টি দেশ এতে সদস্য হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভুটান ছাড়া সার্কের অন্য সদস্যদেশগুলো কনভেনশনটিতে যোগ দিয়েছে বা অনুমোদন করেছে।

কনভেনশনে অন্তর্ভুক্ত হলে বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়ন পেতে সহায়তা, রাসায়নিকের ডেটাবেজ তৈরি এবং এসব রাসায়নিকের গতিবিধি অনুসরণের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত রাসায়নিকের আমদানি-রপ্তানি বিষয়ে পূর্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও যৌথ দায়িত্ব পালনের সুযোগ বাড়বে।

কনভেনশনের আওতায় বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও আইনি তথ্য সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে বিনিময় এবং রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad