গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কারপ্রক্রিয়া থেকে সরে এসে সংবিধান সংশোধনের জন্য নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ বিএনপির ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার। তাঁর অভিযোগ, গণভোটের রায় কার্যকর না করে শুধু জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হলে তা মূল বিষয় থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার শামিল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিসারোয়ার তুষার বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করেছিল। কিন্তু দলটির বর্তমান অবস্থান ও পদক্ষেপে বড় ধরনের অসংগতি দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর মতে, গণভোটে উত্থাপিত চারটি প্রশ্নের মধ্যেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি স্পষ্ট করা হয়েছে। তাই গণভোটের রায় কার্যকর করা হলে সনদ বাস্তবায়নের পথও উন্মুক্ত হবে। গণভোটের রায় পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংস্কারপ্রক্রিয়া নির্বাচনের আগেই শুরুএনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, বিএনপি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন থেকে শুরু করার প্রবণতা দেখাচ্ছে। অথচ এর আগে ফ্যাসিবাদের পতন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল।
তিনি বলেন, সংস্কার কোনো দলের একক এজেন্ডা ছিল না; গণঅভ্যুত্থানের আগেই এটি জাতীয় এজেন্ডায় পরিণত হয়েছিল। ঐকমত্যের ভিত্তিতে যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সারোয়ার তুষারের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিএনপির কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল না। তারপরও সরকার ক্ষমতায় এসে এটি বাতিল করেছে। পুলিশ সংস্কারসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকা অন্যান্য বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বানসংবাদ সম্মেলনে এনসিপি তিনটি দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো—
১. অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।
৩. একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এনসিপি অংশ নেবে না।
সারোয়ার তুষার সতর্ক করে বলেন, বিএনপি সরকার সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে বিরোধী দলের চলমান আন্দোলন ভবিষ্যতে গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারে। দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক