ডব্লিউএইচওর পদে নিয়োগে মিথ্যা তথ্যের অভিযোগ, পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ বিকাল
  • ৪৩৮৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (১৮ অক্টোবর) এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

দুদকের অভিযোগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষকতা ও শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরি বা পর্যালোচনার কাজে যুক্ত থাকার বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল তাঁর সিভিতে মিথ্যা তথ্য দেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পান বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

পৃথক দুটি মামলা

২০২৫ সালের ২০ মার্চ সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে একটি মামলা ডব্লিউএইচওতে চাকরি পেতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে। অন্যটি সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ২০টি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগে।

দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, পুতুল ২০২৩ সালে ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করার সময় নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য দেন, যার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা কিংবা শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরি ও পর্যালোচনার কাজে অংশ না নিয়েও এ ধরনের অভিজ্ঞতার দাবি করেন।

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়, সায়মা ওয়াজেদ ২০১৭ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মাধ্যমে অটিজম ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন নিযুক্ত হন। পাশাপাশি তিনি ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তদন্তে দাবি করা হয়েছে, এসব দায়িত্বে থাকার সময় তিনি নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সিভিতে অসত্য তথ্য দেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেন। এতে রাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে দুদক।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য পাঠানোর অভিযোগ

দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত ও তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, জাতিসংঘের কার্যালয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে সংশ্লিষ্ট তথ্য পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুতুল ওই পদে নিয়োগ পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে।

তবে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন পাওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad