দেবহাটায় গণপিটুনিতে শামীম হত্যা, জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি এনসিপির

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ বিকাল
  • ৩৭৫০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে দুই দফায় গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘটনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়। এতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চার দফা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে দলটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে একজন ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গণপিটুনি, পুলিশি উদ্ধার ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুনরায় হামলা এবং শেষ পর্যন্ত হত্যার ঘটনা আইনের শাসন ও নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তার ওপর গুরুতর আঘাত। কোনো অভিযোগের বিচার করার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই। বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও আইনানুগ বিচারব্যবস্থার।

এনসিপি বলেছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ গুরুতর হলেও তা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী বিচার করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নির্ধারণ এবং অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার আগেই কাউকে পিটিয়ে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষার নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।

হাসপাতালে হামলা, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, পুলিশ শামীমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও তার জীবনের নিরাপত্তা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন ব্যক্তির ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা কীভাবে সম্ভব হলো এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় কীভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করল, তার জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।

এনসিপির দাবি, শুধু ঘটনার পর তদন্তের ঘোষণা দিলেই হবে না; হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণ এবং দায়িত্বে অবহেলা বা যোগসাজশ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

অডিওর সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান

বিজ্ঞপ্তিতে সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর শামীমের ওপর হামলার ঘটনায় কারী ফজলুল হক আমিনী নামে এক ব্যক্তি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে স্থানীয় যুবদল কর্মী সাদিকুল ইসলাম এবং সরকারি খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাজমুলের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়নি।

এনসিপি আরও জানায়, নিহত শামীমের পরিবারের দাবি, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং তার চিকিৎসা চলছিল। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওর সত্যতা, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং শারীরিক ও মানসিক অবস্থা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

দলটির মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো অডিও বা অভিযোগকে হত্যাকাণ্ডের বৈধতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগ সত্য কিংবা মিথ্যা—কোনো অবস্থাতেই গণপিটুনি দিয়ে হত্যা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এনসিপির চার দফা দাবি

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চারটি পদক্ষেপ দাবি করেছে দলটি।

১. হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার: প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার হামলায় অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। হামলায় উসকানি দেওয়া, জনতাকে সংগঠিত করা কিংবা সহিংসতায় ভূমিকা রাখার অভিযোগও তদন্ত করতে হবে।

২. হাসপাতালে হামলার জবাবদিহি: চিকিৎসাধীন শামীমের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা কেন ব্যর্থ হলো এবং দায়িত্বে অবহেলা বা যোগসাজশ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।

৩. অডিও, গুজব ও উসকানির তদন্ত: আলোচিত অডিওর উৎস, সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতায় উসকানি বা জনতাকে সংগঠিত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার: নিহতের পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়ভীতি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারকে আইনি সহায়তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি আরও বলেছে, সাম্প্রদায়িক উসকানি ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অবস্থান হতে হবে দ্ব্যর্থহীন। ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষা এবং মানুষের জীবন ও আইনি অধিকার রক্ষা—দুটিই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শাস্তি দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

তথ্যসূত্র: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি; দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার পাঠানো বিবৃতি, ১৫ অক্টোবর ২০২৬।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad