বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এমসিএক্সে অক্টোবরের চুক্তিতে প্রতি ১০ গ্রাম বিশুদ্ধ সোনার দাম কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৯ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এক ভরি সোনা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামের সমান।
আগের দিনের তুলনায় এ দাম ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কম। রোববার প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৮১ রুপি। সোমবার লেনদেনের একপর্যায়ে দাম নেমে আসে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৭ রুপিতে। অর্থাৎ একপর্যায়ে আগের দিনের তুলনায় দাম কমে যায় ৩ হাজার ২০০ রুপিরও বেশি।
তবে এমসিএক্সের এই দর সরাসরি খুচরা বাজারে বিক্রি হওয়া গহনার দাম নয়। খুচরা পর্যায়ে সোনার মূল্যের সঙ্গে ৩ শতাংশ জিএসটি এবং গহনা তৈরির মজুরি বা মেকিং চার্জ যুক্ত হয়। এ ছাড়া বাজারে প্রচলিত অধিকাংশ গহনা ২২ ও ১৮ ক্যারেটের হওয়ায় ২৪ ক্যারেট সোনার আন্তর্জাতিক ও ফিউচারস বাজারের বেঞ্চমার্ক দরের ভিত্তিতে সেগুলোর মূল্য নির্ধারিত হয়।
বিশ্ববাজারেও বড় পতনসোমবার আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে। ১ সেপ্টেম্বরের পর এক দিনে এটিই ছিল সোনার দামে সবচেয়ে বড় পতন।
এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে।
সুদের হার ও ডলারের প্রভাবযুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশাও সোনার দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাধারণত সোনা থেকে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদনির্ভর সম্পদ তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। এতে সোনার চাহিদা ও দামে চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সোনার দরপতনে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও ভূমিকা রাখছে। গত সপ্তাহে ডলারের মূল্য দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও বেড়েছে।
ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাড়ায় ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ডলারের মূল্য শক্তিশালী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনার দাম সাধারণত চাপে পড়ে। এর প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারেও।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক