সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। পোস্টে তিনি সাদিক কায়েম ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করার পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইসলামী মূল্যবোধের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, সাদিক কায়েম ও এসএম ফরহাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে সিট বাণিজ্য বন্ধ, যোগ্যতা অনুযায়ী সিট বরাদ্দ, বৃষ্টির দিনে ছাত্রীদের জন্য ভ্যানের ব্যবস্থা, আলাদা বাস এবং গরমের সময়ে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার মতো কিছু কাজ করেছেন, যা প্রশংসনীয়।
তবে তাঁর প্রশ্ন, শুধু উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিতে মুসলিম হিসেবে কাউকে সমর্থন করা যায় কি না। তাঁর মতে, দুনিয়ার সুযোগ-সুবিধার চেয়ে আল্লাহর বিধানকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
নারীদের খেলাধুলার প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ইসলামিক প্রতিষ্ঠান নয় এবং সব নারী শিক্ষার্থী পর্দা করেন না। তাই মেয়েদের বাস্কেটবল খেলা নিয়ে তাঁর আপত্তি নয়। তাঁর আপত্তি মূলত শর্ট প্যান্ট ও টাইট পোশাক পরে খেলাধুলার আয়োজন এবং সেটিকে প্রকাশ্যে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়ে।
তিনি দাবি করেন, সাদিক কায়েমকে অনেক নারী শিক্ষার্থী অনুসরণ করেন এবং তাঁকে নেতা হিসেবে দেখেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তির সঙ্গে সাদিক কায়েমের যোগাযোগ এবং তাঁদের সমর্থনের বিষয়টি উল্লেখ করে মাদানী বলেন, এতে অনুসারীরা তাঁর কর্মকাণ্ডকে সঠিক বলে মনে করতে পারেন।
এ কারণে তিনি শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক, আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট আলেমদের এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলে সাদিক কায়েমসহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হতে পারবেন।
রফিকুল ইসলাম মাদানী তাঁর পোস্টে আরও বলেন, বিষয়টি শুধু উন্নয়ন বা সুযোগ-সুবিধার নয়; আদর্শ ও ইসলামী বিধানও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদাহরণ টেনে বলেন, শুধু উন্নয়ন বিবেচনা করে তাঁরা ওই সরকারের অবস্থানের সঙ্গে একমত হননি।
পোস্টের শেষাংশে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন এবং ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে গৌণ করে কোনো রাজনৈতিক সাফল্য অর্জিত হলে সেটিকে ইসলামের পক্ষের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে না বলে মন্তব্য করেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক