নেত্রকোনা সরকারি কলেজের প্রভাষকের নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ, তদন্ত করবে প্রশাসন

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ বিকাল
  • ৩৮৯২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনা সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আবু সায়েমের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ২০০৭ সালে মদন উপজেলার হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজে বেসরকারিভাবে প্রভাষক পদে নিয়োগের সময় প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে তার বেসরকারি নিয়োগ এবং ২০১৩ সালে কলেজটি জাতীয়করণের পর আত্তীকরণের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ আবু সায়েম ও ওই কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হক। তাদের দাবি, নিয়োগের সময় বিধি মেনেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনও নেওয়া হয়েছিল।

গত ১১ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক, শিক্ষা সচিব ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগটি দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

প্রতিযোগিতামূলক বাছাই নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, মোহাম্মদ আবু সায়েম ২০০৭ সালে মদন উপজেলার হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক পদে বেসরকারিভাবে নিয়োগ পান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি; শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। দর্শন বিভাগের প্রভাষক পদের জন্য মৌখিক পরীক্ষায় একমাত্র প্রার্থী হিসেবে আবু সায়েম অংশ নেন এবং পরে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগকারীর দাবি, একটি পদের বিপরীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রার্থী উপস্থিত না থাকলে বাছাই প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক হয় না। এ ক্ষেত্রে একটি পদের বিপরীতে একজন প্রার্থী থাকায় প্রতিযোগিতামূলক বাছাইয়ের শর্ত পূরণ হয়নি। ফলে নিয়োগটি বিধিসম্মত ছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালে কলেজটি জাতীয়করণের পর আত্তীকরণের মাধ্যমে আবু সায়েম সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পান। পরে তিনি নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজে বদলি হন। সম্প্রতি তাকে নেত্রকোনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর বক্তব্য, বেসরকারি নিয়োগ বিধিসম্মত না হয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে আত্তীকরণের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে তার বেসরকারি ও সরকারি নিয়োগের বৈধতা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

‘নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি’

অভিযোগের বিষয়ে সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হক বলেন, ২০০৭ সালে দুজন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নিয়োগ বোর্ডে তিনি ছিলেন এবং তৎকালীন নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

তার দাবি, ওই সময় প্রত্যেক পদের বিপরীতে নির্দিষ্টসংখ্যক প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি।

মোহাম্মদ আবু সায়েমও অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, দুটি পদের বিপরীতে ১৩ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে দুটি পদের বিপরীতে তিনি ও অপর একজন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।

আবু সায়েমের ভাষ্য, প্রতি পদের বিপরীতে তিনজন প্রার্থী থাকার কথা থাকলেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়ার পর তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। পরিচিত একজন প্রতিহিংসাবশত অভিযোগটি করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, অভিযোগটি পুরোপুরি মিথ্যা।

তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হবে। দ্রুতই বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad