বাসাইলে ১০ কোটি টাকা সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, দুদকের অভিযান ঠিকাদার গ্রেপ্তার

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ দুপুর
  • ৪৫৬৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে অনিয়মের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের একটি দল সেতুটিতে অভিযান চালায়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বিপ্লব হোসেন। এ সময় উপসহকারীসহ দুদকের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক বিপ্লব হোসেন বলেন, সেতুটির ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার ভেঙে পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় রডের পরিমাণ কম পাওয়া গেছে। সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরি করে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশনকে বিস্তারিত জানানো হবে এবং কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাঁশ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, সরেজমিনে ব্যবহৃত বাঁশ পাওয়া যায়নি। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও প্রতিবেদনে সাটারিংয়ে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখা গেছে।

ঠিকাদারের সাব-ঠিকাদার গ্রেপ্তার

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে বাসাইল থানায় মামলা হওয়ার পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহ আলম (৪৪) রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম এবং অপর আসামি সাব-ঠিকাদার শাহ আলম।

একই ঘটনায় এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশ ও চিঠিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

তদন্ত কমিটি

ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। এর পাশাপাশি সেতুটির নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা অঞ্চল ও টাঙ্গাইল এলজিইডির কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটির নির্মাণকাজ করছে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। স্থানীয়রা বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তারা ওই কাজের ভিডিও ধারণ করেন। পরে স্থানীয়রা চলে গেলে আবার রাতে ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয় বলে অভিযোগ।

পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেতুটি পরিদর্শন ও তদন্তের উদ্যোগ নেয়।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলম তাদের অনুপস্থিতিতে রাতে কাউকে না জানিয়ে ওয়াকওয়ে ও ফুটপাতের ঢালাইয়ের কাজ করেন। বিষয়টি ত্রুটিপূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানোর পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ল্যাব টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad