বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার শেষে উপকূলে ফেরার পথে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে বরগুনার তালতলী উপজেলার একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। মঙ্গলবার সকালে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন সাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারে থাকা ১৩ জেলের মধ্যে ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
ডুবে যাওয়া ট্রলারটির নাম ‘এফবি জান্নাত-জুনায়েদ’। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার।
নিখোঁজ দুই জেলে হলেন—তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের বড় ভাইজোড়া এলাকার মনির হোসেনের ছেলে মো. রাকিব (১৯) এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পাওয়াপাড়া এলাকার হরমুজ আলী হাওলাদারের ছেলে মো. নবী হোসেন হাওলাদার (৪৫)।
যেভাবে দুর্ঘটনাস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়বগী ইউনিয়নের সওদাগরপাড়া এলাকার আল-আমীন ও গোলাম রাব্বির যৌথ মালিকানাধীন ‘এফবি জান্নাত-জুনায়েদ’ ট্রলারটি গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ১৩ জেলেকে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যায়।
সোমবার সাগর উত্তাল হয়ে আবহাওয়া খারাপ হলে জেলেরা উপকূলের দিকে ফিরতে শুরু করেন। মঙ্গলবার সকালে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালে প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর সাগরে ভাসতে থাকা ১১ জেলেকে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার উদ্ধার করে। পরে তারা ওই ট্রলারে করে নিরাপদে উপকূলে ফেরেন। তবে নিখোঁজ দুজনকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের মালিক মো. আল-আমীন বলেন, প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে হঠাৎ ট্রলারটি উল্টে যায়। তাঁরা ১১ জন সাঁতরে বের হতে পারলেও দুজন কেবিনের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে সাগরে ভাসতে থাকা অবস্থায় অন্য একটি ট্রলার তাঁদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। সাগর উত্তাল থাকায় নিখোঁজ দুজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধারে উদ্যোগতালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ সরকার বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদেরও খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া ১১ জেলের মধ্যে ছয়জন তালতলী উপজেলার, চারজন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার এবং একজন খুলনা জেলার বাসিন্দা।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স