ডিপিসির তদন্তে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের ২৫ মে থেকে ২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুগলের তিনটি সেবা—‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’, ‘লোকেশন হিস্ট্রি’ এবং ‘লোকেশন অ্যাকিউরেসি’—এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের লোকেশন তথ্য প্রক্রিয়াকরণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহারে স্বচ্ছতার ঘাটতিডিপিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’ ও ‘লোকেশন হিস্ট্রি’ ফিচারের মাধ্যমে লোকেশন তথ্য ব্যবহারে বৈধতা ও ন্যায্যতার ঘাটতি ছিল। একই সঙ্গে ‘লোকেশন অ্যাকিউরেসি’ ফিচারের ক্ষেত্রে তথ্য ব্যবহারের বৈধতা, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছে গুগল। তিনটি ফিচারের ক্ষেত্রেই তথ্য ব্যবহারের বিষয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতা ছিল না বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে।
ডিপিসি আরও বলেছে, ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’ ও ‘লোকেশন হিস্ট্রি’তে প্রয়োজনের চেয়ে দীর্ঘ সময় ব্যবহারকারীদের লোকেশন তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এতে ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর ব্যবহারকারীদের নিয়ন্ত্রণ আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ছয় মাসের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশজরিমানার পাশাপাশি গুগলকে ছয় মাসের মধ্যে তাদের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি জিডিপিআরের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছে ডিপিসি।
ডিপিসির উপকমিশনার গ্রাহাম ডয়েল বলেন, গুগলের ত্রুটির কারণে অনেক ব্যবহারকারী হয়তো বুঝতে পারেননি যে তাদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের প্রভাবিত করতে বা তাদের আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা নিতে ব্যবহার করা হতে পারে। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় তথ্য সংরক্ষণ করায় ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিও বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভোক্তা সংগঠনের অভিযোগে তদন্তইউরোপের বিভিন্ন ভোক্তা অধিকার সংগঠনের অভিযোগের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডিপিসি গুগলের লোকেশন তথ্য ব্যবহারের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। অভিযোগকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ভোক্তা সংগঠনগুলোর জোট বিইইউসিও ছিল।
ডিপিসি জানিয়েছে, জিডিপিআর কার্যকর হওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংস্থাটির আরোপ করা জরিমানার মোট পরিমাণ ৪ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। গুগলের বিরুদ্ধে নতুন এই জরিমানা ডিপিসির আরোপ করা বড় জরিমানাগুলোর অন্যতম।
গুগলের পক্ষ থেকে রয়টার্সকে বলা হয়েছে, তদন্তটি মূলত পুরোনো নীতিমালা ও চর্চা নিয়ে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এরই মধ্যে ব্যবহারকারীদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো, তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার ব্যবস্থা এবং কম নির্দিষ্ট লোকেশন তথ্য সংরক্ষণের মতো পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আয়ারল্যান্ডের ডেটা প্রোটেকশন কমিশন (DPC), রয়টার্স।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক