গুরুদাসপুরে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
গুরুদাসপুরে চেচুয়া নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। সুসজ্জিত নৌকায় ঢাক-ঢোলের তালে ভাটিয়ালী গান আর মাঝিদের ‘হেইয়ারে হেইয়াহো, মারো টান, হেইয়াহো’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর চারপাশ। বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর দর্শকদের করতালিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

ভাদ্রের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে দুই দিনব্যাপী এ নৌকা বাইচ উপভোগ করতে গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন হাজারো মানুষ। দক্ষিণ চলনবিল অধ্যুষিত দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী খাঁকড়াদহ, শরীফপুর, কচুগাড়ী ও ভিটা কাজিপুর এলাকার চেচুয়া নদীতে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় বাড়িগুলোতে আত্মীয়স্বজনেরও সমাগম ঘটে। নদীর দুই পাড়ে লক্ষাধিক দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়।

বুধবার বিকেল ৩টায় উপজেলার খাঁকড়াদহ পূর্বপাড়া যুবসমাজের উদ্যোগে নৌকা বাইচের ফাইনাল পর্ব শুরু হয়। এতে সোনার মদিনা এক্সপ্রেস, কান্দিপাড়া সোনার তরী, একতা এক্সপ্রেস, রিয়াদ এন্টারপ্রাইজ ও মোল্লাপাড়া এক্সপ্রেসসহ মোট ১৪টি নৌকা অংশ নেয়। সাতটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নৌকাগুলো তুমুল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতা শেষে কচুগাড়ী একতা এক্সপ্রেস প্রথম, কচুগাড়ী রিয়াদ এক্সপ্রেস দ্বিতীয় এবং সোনার মদিনা এক্সপ্রেস তৃতীয় স্থান অর্জন করে। পরে পানশী নৌকার প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আয়োজক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রবিউল ইসলাম বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রথম স্থান অর্জনকারী নৌকাকে বড় ফ্রিজ, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে ২৪ ইঞ্চি এলইডি টিভি পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্যান্য নৌকার মালিকদেরও সৌজন্য পুরস্কার দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের মতে, নৌকা বাইচ গ্রাম-বাংলার প্রাচীন লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম ঐতিহ্য। এমন আয়োজনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা লোকজ ঐতিহ্যও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad