নিহত সাদিয়া আক্তার (২৬) মতলব পৌর শহরের ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি নায়েরগাঁও এলাকার বাসিন্দা ও সৌদিপ্রবাসী ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতরা হলেন—নায়েরগাঁও এলাকার অটোরিকশাচালক রোমান হোসেন (৪৫), খাদেরগাঁও ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রামের গাজীবাড়ির খোরশেদা বেগম (৫৮), জিলানী (২৮) ও পারভীন (৪০)। আহতদের মধ্যে খোরশেদা, জিলানী ও পারভীন নিহত সাদিয়ার শাশুড়ি, দেবর ও ননদ।
জানাজায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাপ্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজন মো. ইয়াছিন মিয়া জানান, আগের রাতে তাদের জেঠাতো ভাই রহুল আমিনের মা রাজিয়া (৫০) মারা যান। শনিবার সকাল ৮টায় তাঁর জানাজা ও দাফন হওয়ার কথা ছিল।
সকাল ৬টার দিকে সাদিয়ার পরিবার অটোরিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী জৈনপুর পরিবহনের একটি বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাদিয়া মারা যান এবং চারজন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
বাসচালক আটক, যান চলাচল বন্ধদুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা জৈনপুর পরিবহনের বাসচালক কাউছারকে আটক করে নাগদা বড়বাড়ির মসজিদসংলগ্ন কাছারি ঘরে আটকে রাখে। একই সঙ্গে সড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে চালককে আটক করেন এবং বাসটি থানায় নিয়ে যান। আটক কাউছারের বাড়ি মতলব পৌরসভার ঢাকিরগাঁও এলাকায়।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স