মিরসরাইয়ে চার রেলস্টেশন বন্ধ, নেই আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ দুপুর
  • ৪১৩৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দ্রুত শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও পর্যটন বাড়লেও রেল যোগাযোগে পিছিয়ে রয়েছে উপজেলা। দীর্ঘ রেলপথ থাকলেও মিরসরাইয়ের পাঁচটি স্টেশনের মধ্যে চারটিই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। চালু থাকা চিনকি আস্তানা স্টেশনেও থামে না কোনো আন্তঃনগর ট্রেন। ফলে শিল্পাঞ্চলে কর্মরত হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সড়কপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলায় চিনকি আস্তানা, নিজামপুর, বড়তাকিয়া, মিরসরাই ও মস্তাননগর—এই পাঁচটি রেলস্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে শুধু চিনকি আস্তানা স্টেশনটি চালু আছে। সেখানে দুটি লোকাল ও মেইল ট্রেনের যাত্রাবিরতি থাকলেও কোনো আন্তঃনগর ট্রেন থামে না।

চিনকি আস্তানা স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রায় দুই দশক আগেও মিরসরাইয়ের রেলস্টেশনগুলো ছিল ব্যস্ত ও জমজমাট। বর্তমানে ট্রেনের যাত্রাবিরতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্টেশনগুলো অচল ও অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে রেলওয়ের অনেক সম্পত্তি বেদখল হয়েছে এবং পরিত্যক্ত ভবনগুলো মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ

স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম উদ্দীন বলেন, মিরসরাই থেকে চট্টগ্রাম যেতে বর্তমানে বাসভাড়া ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা এবং ঢাকায় যেতে ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত লাগে। রেলে একই পথে ভাড়া তুলনামূলকভাবে অনেক কম হতে পারে। তাঁর মতে, সকালে ও বিকেলে লোকাল বা ‘মিরসরাই কমিউটার’ ট্রেন চালু করা হলে চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।

শিল্পাঞ্চলে বাড়ছে যাতায়াতের চাপ

মিরসরাইয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে দ্রুত শিল্পায়ন হচ্ছে। বেপজার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে ছয়টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় চার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ ছাড়া ৪৮টি প্রতিষ্ঠান জমি ইজারা নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ এবং প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

বেজা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক অঞ্চলে গত ১০ বছরে ১৭টি দেশি-বিদেশি কারখানা চালু হয়েছে। সেখানে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। আরও ২৪টি কারখানা নির্মাণাধীন রয়েছে।

শিল্পাঞ্চলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা ও শ্রমিকের যাতায়াতের কারণে দ্রুত ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাবেক কনসালটেন্ট আবদুল কাদের ও ঠিকাদার গিয়াস উদ্দিন সহজ পণ্য পরিবহন ও শ্রমিকদের যাতায়াতের সুবিধায় বন্ধ স্টেশনগুলো দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন।

পর্যটনেও সম্ভাবনা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে মিরসরাই ইতিমধ্যে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। খৈয়াছড়া, রূপসী ও সহস্রধারা ঝরনা, মহামায়া লেক এবং আরশিনগর ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে প্রতিদিনই মানুষের যাতায়াত রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করতে বিজয় এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, পর্বত, সোনার বাংলা ও পর্যটক এক্সপ্রেসসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি মিরসরাইয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক—দুই দিক থেকেই মিরসরাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এখানে আন্তঃনগর ট্রেনের ন্যূনতম যাত্রাবিরতিও নেই। বিষয়টি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে রেলওয়ের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, এখানে দেশের অর্থনীতির বড় ধরনের কর্মযজ্ঞ চলছে। পর্যটন ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে বন্ধ রেলস্টেশনগুলো চালুর পাশাপাশি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আসিফ খান চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মিরসরাই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কেন আন্তঃনগর ট্রেনসেবা নেই, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সমীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি আশা করেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad