জ্বালানি সংকটে পোশাক উৎপাদন কমেছে ৩৫ শতাংশ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৬ দুপুর
  • ১৪৮৩৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং নীতির ঘন ঘন পরিবর্তন—এই তিন সমস্যায় চাপে রয়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। এর মধ্যে জ্বালানি সংকটকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমে গেছে।

তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে কারখানাগুলোতে ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে এখন ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শ্রম ও কমপ্লায়েন্স–সংক্রান্ত চাপও বাড়ছে। অতিরিক্ত সময় কাজ না করলে ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে দেশের পোশাকশিল্পের বর্তমান সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মাহমুদ হাসান খান এসব কথা বলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পোশাক খাতের বড় তিন সমস্যা হলো জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং নীতির ঘন ঘন পরিবর্তন। এর মধ্যে জ্বালানি সমস্যার দ্রুত সমাধান সবচেয়ে জরুরি। কারণ পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়ায় কারখানাগুলো স্বাভাবিক উৎপাদন ধরে রাখতে পারছে না।

আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান তিনি। তাঁর মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আমেরিকা-ইরান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ব্যয় বেড়েছে। খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পর পোশাকের মতো পণ্যে ব্যয় কমিয়ে দিচ্ছেন তারা। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের পোশাকের ক্রয়াদেশে।

উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পোশাকের দাম বাড়াতে আগ্রহী নন বলে জানান মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, ক্রেতারা পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সামগ্রিক ‘ল্যান্ডেড কস্ট’ বিবেচনা করেন। বাংলাদেশ থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হলে তারা ভারত, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান বা চীনের মতো প্রতিযোগী দেশ থেকে কম দামে পণ্য সংগ্রহের সুযোগ বিবেচনা করবে। ফলে বাংলাদেশের কারখানাগুলো ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে।

উচ্চ সুদের হার কমাতে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ। সুদের হার কমানো সম্ভব না হলে কম খরচের তহবিল দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পোশাকের বাজার হারাতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বাজার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে কারখানাগুলোর অন্যান্য ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি খরচ কমানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সরকারের কাছে জ্বালানি ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের পোশাক খাতের দুর্বলতার বিষয়ে তিনি বলেন, পণ্যের বৈচিত্র্য একটি বড় বিষয়। তবে অবকাঠামো, বাণিজ্যনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে অবকাঠামোগত সমস্যাই সবচেয়ে বেশি।

রপ্তানিতে সময়ের ব্যবধান বা লিড টাইম নিয়েও বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানান মাহমুদ হাসান খান। তাঁর ভাষ্য, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ থেকে পণ্য পরিবহনে সিঙ্গাপুর, কলম্বো বা মালয়েশিয়ার বন্দর ব্যবহার করতে হয়। বিপরীতে ভারত, ভিয়েতনাম ও চীনের মতো প্রতিযোগী দেশের গভীর সমুদ্রবন্দর সুবিধা রয়েছে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে বাংলাদেশের লিড টাইম কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিজিএমইএ সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে উৎপাদন, রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান—সব ক্ষেত্রেই চাপ আরও বাড়তে পারে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad