উত্তরাধিকারসূত্রে জমির নামজারি: যেসব কাগজপত্র লাগবে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির মালিকানা হালনাগাদ করতে নামজারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এ জন্য জমির আগের খতিয়ান, জমির বিবরণ, আবেদনকারীর পরিচয়পত্র ও ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হয়। ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামাও প্রয়োজন হতে পারে।

নামজারির আবেদন করার আগে জমির দাগ নম্বর, পরিমাণ, মালিকানার তথ্য এবং উত্তরাধিকারীদের পরিচয়সংক্রান্ত নথি মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। কাগজপত্রে অসংগতি থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হতে পারে।

নামজারির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

জমি কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে—

১. আগের খতিয়ানের কপি: সংশ্লিষ্ট জমির বিদ্যমান খতিয়ান।

২. জমির বিবরণ: দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য।

৩. জাতীয় পরিচয়পত্র: আবেদনকারীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য।

৪. ওয়ারিশ সনদ: উত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিকানা দাবি করার ক্ষেত্রে।

৫. মৃত্যুসনদ: প্রয়োজনে মূল মালিকের মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে।

৬. নিবন্ধিত বণ্টননামা: ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।

৭. নিবন্ধিত দলিলের কপি: জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠায় প্রাসঙ্গিক দলিল প্রয়োজন হলে।

৮. ফি পরিশোধের তথ্য ও অন্যান্য নথি: সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা অনলাইন আবেদনের নির্দেশনায় চাওয়া কাগজপত্র।

যৌথ নামজারি ও পৃথক খতিয়ান

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের নাম ও তাঁদের প্রাপ্য অংশের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। যৌথ নামজারির মাধ্যমে উত্তরাধিকারীদের নাম একসঙ্গে রেকর্ডভুক্ত করা যেতে পারে। আর ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত বণ্টননামাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগতে পারে।

তবে জমির ধরন, বিদ্যমান রেকর্ড, ওয়ারিশদের মধ্যে বিরোধ এবং আবেদনকারীর দাবির ভিত্তিতে অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।

অনলাইনে নামজানির আবেদন করবেন যেভাবে

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি পোর্টাল land.gov.bd থেকে ই-নামজারি সেবায় প্রবেশ করে আবেদন করা যায়। সাধারণভাবে ধাপগুলো হলো—

১. সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করে ই-নামজারি সেবা নির্বাচন করুন।

২. আবেদনকারীর পরিচয়, জমির অবস্থান, খতিয়ান ও দাগ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন।

৩. জমি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া হলে সেই তথ্য উল্লেখ করে সব ওয়ারিশের বিবরণ সঠিকভাবে দিন।

৪. নির্দেশনা অনুযায়ী খতিয়ান, ওয়ারিশ সনদ, প্রাসঙ্গিক দলিল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করুন।

৫. আবেদন জমা দিয়ে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করুন এবং আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন।

৬. অনলাইনে আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করুন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাইলে তা জমা দিন।

আবেদনের আগে সতর্কতা

নামজারির আবেদন করার আগে সব নথিতে জমির মালিকের নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখা উচিত। সরকারি পোর্টালে দেওয়া সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি নিশ্চিত করে আবেদন করা ভালো। আবেদন নিষ্পত্তির সময় নির্ভর করতে পারে নথির যথার্থতা, জমির অবস্থা এবং কোনো আপত্তি বা বিরোধ রয়েছে কি না, তার ওপর।

তথ্যসূত্র: “উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারিতে যেসব কাগজপত্র লাগবে”, প্রকাশিত ২৪ অক্টোবর ২০২৬; ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি পোর্টাল: land.gov.bd।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad