১২৯ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, সংকটে নবীনগরের প্রাথমিক শিক্ষা

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৯ দুপুর
  • ১৬১২৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উপজেলার ২১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৯টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৫৭ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক রয়েছেন এক হাজার ৪৪০ জন। এর মধ্যে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক মাত্র ৯০ জন, আর বাকি ১২৯টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় প্রশাসনিক কাজের চাপ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শুধু বিদ্যালয়েই নয়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। শিক্ষা কর্মকর্তার পাশাপাশি ১১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন। এছাড়া পাঁচটি অফিস সহায়ক পদের বিপরীতে রয়েছেন একজন কর্মচারী। উচ্চমান হিসাব সহকারীর পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। জনবল সংকট সামাল দিতে অনেক সময় বিদ্যালয় থেকে সহকারী শিক্ষক এনে অফিসের কাজ করাতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে।

এদিকে অবসর, মৃত্যু, অসুস্থতা, ছুটি, প্রশিক্ষণ এবং অন্য পেশায় চলে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।

আলীয়াবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম সবুজ বলেন, একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অধিকাংশ সময় প্রশাসনিক কাজেই ব্যয় হয়। ফলে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও জটিলতা তৈরি হয়।

কালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিন্টু মিয়া বলেন, তাঁদের বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। ছয়জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন চারজন। তিনি বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মানিক ভূঁইয়া জানান, ১১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব বর্তমানে একাই পালন করতে হচ্ছে, যা কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উম্মে সালমা বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, নবীনগরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সমস্যার বিষয়টি তিনি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন। দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকলে শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত সব শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad