জ্বর মানেই অ্যান্টিবায়োটিক নয়: ডেঙ্গুর লক্ষণ বুঝে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬ দুপুর
  • ২১৭০২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সাধারণ জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ আলাদা করে শনাক্ত করার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জ্বর হলেই নিজ উদ্যোগে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে। সাধারণ জ্বরে প্যারাসিটামলই যথেষ্ট, আর ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা জানান, জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, সারা শরীর ও গিঁটে ব্যথা এবং ত্বকে র‌্যাশ দেখা দিলে তা ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে। এ অবস্থায় অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো সচেতনতা। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ৫৯টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। চলতি বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২০ জন। এ সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০ হাজার ৯১১ জন রোগী।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, জ্বর হলে প্রথমে প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে। তবে ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ওষুধের দোকান থেকে নিজ সিদ্ধান্তে ওষুধ কিনে খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ। শিশুদের জ্বর হলে পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি ও শরবত পান করানোর পাশাপাশি বাইরে গেলে ফুলহাতা পোশাক ও মোজা পরানোর পরামর্শ দেন তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে করোনা, ডেঙ্গু, ডায়রিয়াসহ একাধিক ভাইরাসজনিত রোগ একসঙ্গে বাড়ছে। ফলে অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। আতঙ্কিত না হয়ে লক্ষণ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রতি বছর ডেঙ্গু মোকাবিলায় সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; সরকারের সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডিস মশা পরিষ্কার ও অল্প গভীর জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। ফুলের টব, ছাদের পাত্র, পুরোনো টায়ার কিংবা ছোট পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এ মশার আদর্শ প্রজননস্থল। তিনি জানান, সূর্যোদয়ের পর প্রথম দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের দুই থেকে তিন ঘণ্টা এডিস মশা সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। তাই এ সময়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, বর্তমানে ডেনভ-৩ (DENV-3) সেরোটাইপের কারণে রোগীদের মধ্যে দ্রুত ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে বাসাবাড়ি ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad