নারী চিকিৎসককে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ: বরগুনা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

  • মোঃ শাহাদত হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ সকাল
  • ১৯০৫৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

নারী সহকর্মীর সঙ্গে অশালীন আচরণ ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলমের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখার সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত ২২ জুলাইয়ের এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. লুৎফুন্নাহার লনী অভিযোগ করেছেন যে, গত ৬ জুন হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নিজের কক্ষে ডেকে পাঠাতেন। পাশাপাশি অনৈতিক প্রস্তাব, কুপ্রস্তাব এবং অশালীন ইঙ্গিত করতেন। এসব আচরণ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে বিধিমালার ৩(গ) অনুযায়ী ডা. রেজওয়ানুর আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত জবাব দিতে, ১০ দিনের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ গ্রহণ করতে এবং তিনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৪ জুলাই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ডা. লনী দাবি করেন, ১৩ জুলাই সকালে তত্ত্বাবধায়ক হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তাকে নিজের ডরমিটরি কক্ষে একসঙ্গে সময় কাটানোর প্রস্তাব দেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় পরদিন হাসপাতালের স্টাফ ও নার্সদের সামনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নিজেকে নিরাপত্তাহীন উল্লেখ করে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।

এরপর ২১ জুলাই হাসপাতালের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর তিনি অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। তবে পরদিন ২২ জুলাই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে নতুন আবেদন জমা দিয়ে জানান, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাকরিগত ক্ষতির আশঙ্কা দেখিয়ে তাকে অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছিল।

নতুন আবেদনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকজন চিকিৎসক বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট ও সংবাদ দেখিয়ে তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। এছাড়া তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রকৃত ঘটনা গোপন রেখে বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

ডা. লুৎফুন্নাহার লনী বলেন, "আমি লিখিতভাবে সব বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই। অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদনটি আমার কাছ থেকে চাপ সৃষ্টি করে নেওয়া হয়েছিল।"

অন্যদিকে, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, আবাসিক সার্জন নিয়মিত হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে বাইরে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতেন। এ কারণে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পরই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

ডা. রেজওয়ানুর আলম বলেন, "হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি।"




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad