ওভেনে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি, নিটে ধাক্কা—ছয় মাসে কমল বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৮ দুপুর
  • ১৪৭২২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি আয়ে সামান্য পতন দেখা গেছে। ওভেন পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও নিট পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক রপ্তানি আয় গত বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ এক হাজার ৯৩৩ কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ আয় ছিল এক হাজার ৯৪৫ কোটি ৯৩ লাখ ডলার।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৯১৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৯১৩ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, একই সময়ে নিট পোশাক রপ্তানি আয় এক দশমিক ৮০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৩ কোটি ৫৮ লাখ ডলারে। গত বছরের একই সময়ে এ খাতে রপ্তানি আয় ছিল এক হাজার ৩২ কোটি ১৭ লাখ ডলার।

মাসভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, বছরের শুরু থেকেই রপ্তানিতে নেতিবাচক ধারা ছিল। জানুয়ারিতে রপ্তানি কমে এক দশমিক ৩৫ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ এবং মার্চে ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ হ্রাস পায়। এ সময় ওভেন ও নিট—উভয় ধরনের পোশাক রপ্তানিতেই পতন ঘটে।

তবে এপ্রিলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। ওই মাসে মোট পোশাক রপ্তানি ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ৩১৪ কোটি ৯ লাখ ডলারে পৌঁছায়। এর মধ্যে ওভেন পোশাক রপ্তানি ৩২ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং নিট পোশাক ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

মে মাসে আবারও রপ্তানি কমে যায়। ওই মাসে মোট রপ্তানি আয় হয় ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কম। তবে জুনে খাতটি আবার ঘুরে দাঁড়ায়। এ মাসে ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়, যা এক বছরের ব্যবধানে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। জুনে ওভেন পোশাকে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং নিট পোশাকে ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বছরের প্রথমার্ধের রপ্তানি পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও বছরের শেষ পর্যন্ত এ ধারা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে ২০০৫-০৬ সালের দিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে বিকেএমইএর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় আড়াই হাজার। তবে পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এ সংখ্যা কমে প্রায় ৮০০-তে নেমে এসেছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের শুরুতে ধাক্কা থাকলেও জুনে রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বাজার সংকট এবং নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও মাত্র শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ রপ্তানি কমা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতারই ইঙ্গিত দেয়। সময়মতো পণ্য সরবরাহ, উৎপাদন সক্ষমতা এবং পরিবেশবান্ধব কারখানার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতাও এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

তবে সামনের দিনগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতির ধীরগতি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে চাহিদা হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় ও জ্বালানি সংকট, ক্রেতাদের মূল্যচাপ এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর সম্ভাব্য শুল্ক সুবিধা হ্রাস—এসব বিষয় পোশাক রপ্তানির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন, পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার বিকল্প নেই।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad