চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহিদ চৌধুরীর একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে তার ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক কয়েকজন উপদেষ্টাকে নিয়ে করা পৃথক পোস্ট নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক পোস্টে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বিভিন্ন শব্দের সঙ্গে তুলনা করে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে এর সমালোচনা শুরু হয়।
এর আগে গত ২০ জুন দেওয়া আরেকটি ফেসবুক পোস্টে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এবং সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে নিয়েও কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া গত ৭ জুন শহীদ ওসমান হাদীকে নিয়েও তার একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচিত হয়।
ড. আবদুল ওয়াহিদ চৌধুরী ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী জুবায়ের হোসেন সোহাগ দাবি করেন, ২০২২ সালের ২৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে পরিবহনসংক্রান্ত দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের পর তাকে প্রক্টর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার অভিযোগ, ওই সময় ড. আবদুল ওয়াহিদ চৌধুরী তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এদিকে শনিবার রাত থেকে অধ্যাপক ওয়াহিদের বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল হক রুবেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে সমর্থন জানিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি অধ্যাপক ওয়াহিদকে ‘সাহসী’ উল্লেখ করে তার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহিদ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার