বন্যা আতঙ্কে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ সতর্কতা, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ছুটি বাতিল

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫২ বিকাল
  • ১৭৪৯৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। জরুরি সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে জেলার চারটি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

শুক্রবার রাতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

জেলা প্রশাসন জানায়, টানা ভারি বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে যেকোনো সময় পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এ কারণে দুর্যোগকালীন জরুরি সেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলের তথ্য অনুযায়ী সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ২৪ মিটার, যা মৌসুমি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৬ সেন্টিমিটার কমেছে। একই সময়ে জেলায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের ২৪ ঘণ্টার ৭৭ মিলিমিটারের তুলনায় কম।

তবে জেলার শাল্লা উপজেলার মারকুলি স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৭ দশমিক ২৩ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে ৮ দশমিক ৪৬ মিটারে উঠলেও তা এখনো বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

এছাড়া শক্তিয়ারখলা পয়েন্ট, যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় স্টেশন এবং দিরাই এলাকার পুরাতন সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও সবগুলোই এখনো বিপদসীমার নিচে অবস্থান করছে।

পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক বলেন, বর্তমানে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে নদ-নদীর পানিও হ্রাস পেয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিনে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ১২টি উপজেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, জেলার ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমে পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক ও ১ হাজার ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা এবং সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad