বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নূরানী বা তালিমুল কোরআন ফাউন্ডেশন থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন করে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা।
বুধবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেত্রকোনা-৫ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায় অধিকাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত শেখাতে আগ্রহী। কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তাজবিদভিত্তিক কোরআন শিক্ষা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ শিক্ষকের অভাব রয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষা থাকলেও শুদ্ধ উচ্চারণ, মাখরাজ ও তাজবিদের নিয়ম অনুসরণ করে কোরআন শিক্ষাদানের সুযোগ সীমিত। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেও বিশুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারে না।
অধ্যাপক মাছুম মোস্তফার মতে, এ পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের সন্তানদের আলাদাভাবে মক্তব, নূরানী শিক্ষা কেন্দ্র বা ব্যক্তিগত শিক্ষকের কাছে পাঠাতে হয়, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। অনেকের পক্ষে এ ব্যয় বহন করাও সম্ভব হয় না।
তিনি আরও বলেন, নূরানী ও তালিমুল কোরআন পদ্ধতি বর্তমানে শিশুদের শুদ্ধ কোরআন শিক্ষা প্রদানের একটি পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে দেশব্যাপী স্বীকৃত। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা স্বল্প সময়ে শিশুদের বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত, তাজবিদ এবং মৌলিক ধর্মীয় জ্ঞান শেখাতে সক্ষম।
সংসদ সদস্যের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এ ধরনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করা হলে শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়েই শুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত শেখার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক