সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
‘জানাজা ও দাফন ন্যূনতম মানবিক অধিকার’ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, জানাজা পড়া ও লাশ দাফন করা প্রত্যেক মানুষের ন্যূনতম মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ শাসনামলে এই অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি তাঁরা দেখতে চান না।
তিনি দাবি করেন, অতীতে পিয়াস করিম ও আল মাহমুদের মরদেহ শহীদ মিনারে নিতে দেওয়া হয়নি এবং সাধারণ মানুষকে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। বিরোধী দলের অনেক নেতার জানাজাও ঢাকায় করতে দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
‘ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করা যাবে না’নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকায় আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েলের জানাজা হয়েছে। তাঁর নিজের এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম রহমতুল্লাহর জানাজা হয়েছে এবং সংসদীয় রীতি অনুযায়ী শোক প্রকাশ করা হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি লেখেন, ফ্যাসিস্টদের মানবাধিকারের পক্ষেও তাঁরা কথা বলেছেন এবং ভবিষ্যতেও বলবেন। তাঁর ভাষায়, ‘শত্রুর সাথে আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে।’
মানবাধিকারের প্রশ্নে দ্বৈত অবস্থানের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৬ বছরে অনেকে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেননি। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর দেশজুড়ে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি এসব ঘটনারও বিচার দাবি করেন।
দাফনে বাধার ঘটনায় নিন্দানাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে আরও অভিযোগ করেন, অতীতে মরদেহ নিয়ে উল্লাস, কবর ভাঙচুর এবং জানাজায় বাধা দেওয়ার ঘটনাকে স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা হয়েছে। শহীদ ওসমান হাদীর কবর উৎখাতের পক্ষে সম্মতি তৈরির প্রচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, এসব ঘটনার পরও ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করা যাবে না; বরং ফ্যাসিবাদের বিপরীতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ অবস্থান থেকেই পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানান তিনি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক