টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে বাঁশখালী বিপর্যস্ত, পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৬ দুপুর
  • ২১৫০১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে সমুদ্রের জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ডুবে গেছে হাজারো বসতঘর, মাছের ঘের, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক। অনেক এলাকায় রান্নার চুলায় আগুন জ্বলেনি কয়েক দিন ধরে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছনুয়া, শেখেরখীল, নাপোড়া, চাম্বল, শীলকূপ, জলদী পৌর এলাকা, প্রেমাশিয়া, কদমরসুল ও পুকুরিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। বিশেষ করে ছনুয়া উপকূলের পূর্বাঞ্চল সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক হাজার পরিবার খাদ্যসংকট ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে চরম দুর্ভোগে রয়েছে।

স্থানীয় সমাজকর্মী মোহাম্মদ বি. হোসাইন জানান, ছনুয়ার মধুখালী এলাকায় অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অধিকাংশ পরিবার রান্না করতে পারছে না। মধুখালী-ছেলবন এলাকার একমাত্র বাঁশের সাঁকো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত সরকারি সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত স্লুইসগেটে কিছু অসাধু ব্যক্তি মাছ ধরার জাল বসিয়ে রাখায় পানি স্বাভাবিকভাবে নামতে পারছে না। ফলে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

পুঁইছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তারেকুর রহমান বলেন, পাহাড়ি ঢলে নাপোড়া ও শেখেরখীল এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ছড়ার দুই পাশের বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

শেখেরখীল ইউনিয়নের নাপোড়া শেখেরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দুপাড়ায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সড়কটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, বাহারছড়া ইউনিয়নের রত্নপুর এলাকায় গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মারুফ তালুকদার বলেন, প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক কাদা ও পানিতে অচল হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ রোগীদের চলাচল সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হয়। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

খানখানাবাদ ইউনিয়নের সমাজকর্মী জাহেদুল হক বলেন, ভাঙা উপকূলীয় বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে কৃষিজমি ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত বাঁধ সংস্কার না করা হলে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বাঁশখালী পৌরসভার দক্ষিণ ও উত্তর জলদী এলাকাও পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। মহাজনপাড়ার শত শত ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ত্রাণ বিতরণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad