বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের মানুষকে সব সময় অন্যায়, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা জোগাবে।
জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (১ জুলাই) প্রথম প্রহরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শীর্ষক মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টা থেকেই ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন।
রিজভী বলেন, “এই আলো শুধু অন্ধকার দূর করার প্রতীক নয়; এটি ন্যায়, সত্য ও সংগ্রামের আলোকবর্তিকা। জুলাইয়ের স্মৃতি আমাদের আলোকিত করবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে লড়াইয়ের শক্তি ও সাহস জোগাবে।”
তিনি বলেন, “জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কোনো অনুকূল পরিবেশে জন্ম নেয়নি। গত ১৭ বছর দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও অব্যাহত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি এগিয়েছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সেই দীর্ঘ আন্দোলনেরই সর্বোচ্চ প্রকাশ।”
শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, “এই আলোর প্রজ্বালন কেবল একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়। শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রতিদিন স্মরণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচারী বা অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান না ঘটে।”
আবেগঘন বক্তব্যে রিজভী বলেন, “আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি। আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু ওয়াসিম আকরামকে হিমালয়ের মতো অবিচল দাঁড়িয়ে বুলেট বরণ করতে দেখেছি। আমি প্রশান্ত মহাসাগর দেখিনি, কিন্তু আহাজাবের মায়ের অশ্রু দেখেছি—যার গভীরতা প্রশান্ত মহাসাগরের চেয়েও বেশি।”
আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ পরাজিত হলেও তার অবশিষ্ট প্রভাব এখনো সমাজের বিভিন্ন স্তরে রয়ে গেছে। তাই ছাত্রসমাজকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ছাত্রসমাজ কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, “জাতীয়তাবাদ শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয় নয়; আইন মেনে চলা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণও জাতীয়তাবাদের অংশ।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া হাজারো ছাত্র-জনতা এবং ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী ও সমর্থকের স্মরণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রতিবছর এই কর্মসূচি পালন করা হবে।”
তিনি বলেন, “দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, জাতি তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না। ছাত্রদল সবসময় দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্যাতন-নিপীড়নের পরও দেশের স্বার্থে আমরা কখনো আপস করিনি।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক ব্যবসার উপকরণ হতে দেওয়া হবে না। সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও সুশাসনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”
গভীর রাত পর্যন্ত চলা মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক