সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের দাবি—পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা, অর্থবছর জানুয়ারি-ডিসেম্বরে করার প্রস্তাব

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৬ দুপুর
  • ২৪৫২৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বাইরে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকারের বাজেটে কার্যকর কোনো রূপরেখা নেই। তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থের মাত্র ৯ ভাগের এক ভাগও দেশে ফিরিয়ে আনা গেলে বাজেট ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। তাই পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে জোরালো উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পাচার হওয়া অর্থ জনগণের সম্পদ। এসব অর্থ ফিরিয়ে এনে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে কেউ রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের সাহস পাবে না।

তিনি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোরও পরামর্শ দেন।

অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাব

বর্তমান জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ভিত্তিক অর্থবছর চালুর প্রস্তাব দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে, অপচয় ও অনিয়ম কমবে এবং জনগণের করের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

তিনি বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রতি তিন মাস অন্তর সংসদে আলোচনা আয়োজনেরও প্রস্তাব দেন।

দুর্নীতিই সবচেয়ে বড় বাধা

বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায় হিসেবে দুর্নীতিকে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, ইনসাফভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের আন্তরিকতা থাকলে রাজস্ব আদায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে গুরুত্বারোপ

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে না তুললে দেশ আমদানিনির্ভরই থেকে যাবে। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যোগ্যতা যাচাই করে এমপিওভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

কওমি মাদ্রাসা ও প্রাথমিক পর্যায়ের এবতেদায়ী শিক্ষার জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখারও দাবি জানান তিনি।

স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাসপাতালগুলোতে রোগীর তুলনায় শয্যা, জনবল ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর মারাত্মক সংকট রয়েছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় এনে আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করতে হবে।

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ও প্রবাসীদের বিষয়ে বক্তব্য

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হাসপাতাল বন্ধ রাখা হলে চিকিৎসাসেবা ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিশু মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ইতিবাচক অবদানও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে পৃথক টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ভেঙে দালালদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

আঞ্চলিক উন্নয়ন ও জাতীয় প্রকল্প

নিজ নির্বাচনী এলাকার পানিসংকট, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করা, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন, ভোলা সেতু নির্মাণ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

তিনি বলেন, প্রকল্পের নাম নয়, বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বাজেটে গঠনমূলক সংশোধনের আহ্বান

বিরোধীদলীয় নেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারি ও বিরোধীদলীয় সদস্যদের দেওয়া যৌক্তিক প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী সংশোধিত বাজেটে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনবেন। একই সঙ্গে সরকারি ও বিরোধীদলের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য না করার আহ্বান জানান তিনি।

তার বক্তব্য শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাজেটসহ বিভিন্ন জাতীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডা. শফিকুর রহমানকে ধন্যবাদ জানান।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad